বিপ্লব দাশ : এশিয়া কাপ চুকল। তবু ভারত-পাক ক্রিকেটের গোঁষা যাচ্ছে না। ফাইনাল ম্যাচের পর সেই গোঁষা কার্যত দুই পাড়ার রেশারেশির পর্যায়ে পৌঁছুলো। শেষপর্যন্ত তা এমন রূপ নিল, যাকে আর বালখিল্যতা না বলে পারা যায় না। সেই মজার সুর সপ্তমে বেঁধে দিলেন এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বময় কর্তা স্বয়ং মহসিন নকভি। যিনি কিনা আবার পাক-সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারত পাক সাম্প্রতিক বৈরতার জেরে এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলকে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে পাকিস্তানের কোনো মন্ত্রীর হাত থেকে তারা কোনো পুরষ্কার নেবে না। এজন্যই প্রথম থেকে ভারতীয় টিম পাকিস্তানের সঙ্গে কোনোরকম সৌজন্যেও যায়নি। তা নিয়ে যদিও বিস্তর মান অভিমান দেখা গেছে পাকিস্তান টিমের। কিন্তু দু’দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ভাবে যে মিত্র-আচরণ সম্ভব নয় তা বুঝিয়ে দিয়েছিল ভারত। সুতরাং ফাইনালে জিতলে তারা যে নাকভির উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠবে না বা তাঁর হাত থেকে ট্রফি নেবে না এটা পরিষ্কার ছিলই। তবু জেদের বশে এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে মঞ্চ আঁকড়ে রইলেন। এতদূর তবু ঠিক ছিল, কিন্তু এরপর পাক-মন্ত্রী যা করলেন তা ক্রিকেটবিশ্বে এক যুগান্তকারী হাস্যরস হয়ে রইল। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব মঞ্চে এসে তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করায় নাকভি তা বগলদাবা করে নিয়ে গেলে নিজের হোটেলরুমে।
নাটকের পর নাটক অবশ্য শুরু হয়ে গিয়েছিল খেলা শেষ হওয়ার পরেই। সকলের নজর ছিল, কার হাত থেকে তবে ট্রফি নেবে সূর্যেরা। কিন্তু অনুষ্ঠান আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। ভারতীয় ক্রিকেটারেরা মাঠে রইলেও দেখা যাচ্ছিল না পাক ক্রিকেটারদের। সওয়া ঘন্টা টানাপোড়েনের পর যখনর শুরু হল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, নাটক সেখানেও। সঞ্চালক জানান, পাক ক্রিকেটারদের মেডেল দেবেন নাকভি। কিন্তু দেখা গেল এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিলের অন্য এক কর্তাকে। এরপর রানার আপের চেক ছূঁড়ে দিলেন পাক অধিনায়ক। ভারতের কুলদীপ যাদব ম্যাচের সেরা ও অভিষেক শর্মা প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার নেওয়ার পর সঞ্চালক জানিয়ে দেন, ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়নের ট্রফি নেবে না। নাকভি নিজেই এশিয়া কাপের ট্রফি দিতে চান, সে কারণে ভারতও অনড়। এরপরই এল সেই চরম হাস্যকর দৃশ্য। ট্রফি বগলদাবা করে নাকভি চললেন নিজের হোটেলে। ক্রিকেটবিশ্বে ইতিহাস হয়ে রইল এক চূড়ান্ত বালখিল্যতা।
