বিপ্লব দাশ : কয়েক মাস পরেই শেষ হবে পাঁচ বছরের অপেক্ষা। ফের শুরু হবে বাংলার মসনদ দখলের লড়াই। ইতিমধ্যেই ‘স্ট্র্যাটেজি’ সাজাতে শুরু করেছে শাসক, বিরোধী দুই পক্ষই। কীভাবে ভোটে বাজিমাত করা যায়, মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার কে, কোন কৌশলে বঙ্গে সরকার গড়া যাবে, এমন নানান পরিকল্পনা চলছে। এই আবহে উঠে আসছে কে হবেন ২৬শের নির্বাচনে বিজেপির মুখ। সবার আগেই নাম উঠেছে শুভেন্দু অধিকারীর। একসময় তিনি তৃণমূল শিবিরের ‘সৈনিক’ ছিলেন। একুশের নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান শুভেন্দু অধিকারী। বিগত চার বছরে নানান ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির অন্যতম জননেতা তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীকে এমনটাই মনে করছে এখন। আর এ কারণেই শুভেন্দুকে ২৬শের ভোটে বঙ্গ বিজেপির মুখ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
এছাড়া গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারিয়ে ছিলেন তিনি। এই মুহূর্তে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন এই রাজনীতিক। মমতার বিপক্ষে প্রমোট করার মতো নেতা এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপির হাতে শুভেন্দুর বিকল্প কেউ নেই। দিলীপ ঘোষ কিছুটা ব্যাকফুটে, সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যদিও সাংগঠনিক ভাবে বঙ্গ বিজেপি যে একাট্টা এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। দলীয় উপদলীয় নানান গোষ্ঠীতে বিভক্ত দলের অন্দরমহল। বাইরে তা চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা হলেও মূলত দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে যে তিনটি বলয় রয়েছে, তা এককেন্দ্রীক হওয়া খুব সহজ নয়। যে কারণে বঙ্গ বিজেপির কে পরবর্তী সভাপতি হবেন তা ঠিক করে উঠতে পারেনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখন শুভেন্দুকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপির সমীকরণটা কি দাঁড়াতে পারে সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক।
যদিও জননেতা হিসেবে শুভেন্দু ফার্স্ট চয়েস হলেও বঙ্গ বিজেপির সর্বসম্মত নেতা হিসেবে শুভেন্দুর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকেরই সংশয়। তবুও, শুভেন্দু ছাড়া দলে আর এমন কোনো নেতা কই যিনি বঙ্গ বিজেপির হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে দাঁড়াতে পারেন। এখন সত্যি সত্যি যদি শুভেন্দুকে বঙ্গ বিজেপির মুখ করা হয় তাহলে দলের এই ত্রিমুখী গোষ্ঠীকে এক করে শুভেন্দু কী ভাবে তাঁর ২৬শের ভোট প্রক্রিয়া পরিচালিত করবে, সবাইকে নিয়ে সম্ভব, নাকি একাই নিজের করিশমায় মাঠে নামবেন, কী হতে পারে তাঁর নির্বাচনী কৌশল এর জন্য নিশ্চয়ই ঘরে বাইরে একটা কৌতুহল তৈরি হচ্ছে !
