ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের নির্বাচনে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হবে তা আগে থেকেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এবং অন্তরবর্তী সরকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছিল যে ভোট গ্রহণ পর্ব শান্তিপুর্ণ ভাবে করার সবরকম গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শান্তিপুর্ণ ভাবে ভোটপর্ব চললেও বেলার দিক থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে। জানা গেছে খুলনা ভোট কেন্দ্রে জামাতের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিএনপি-র নেতা মহিবুজ্জাবান কচি। এছাড়াও নানা জায়গা বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সকাল থেকেই একাধিক কেন্দ্রে অশান্তি, হামলা ও কারচুপির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো, রিগিং এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ বলেই দাবি করা হয়েছে, তবু দিনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও হিংসার ঘটনা সামনে এসেছে।
ঢাকা-৮ আসনে জামাতের প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি রেল কলোনি হাইস্কুল কেন্দ্রে গেলে তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, প্রায় ১০০ সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তিনি কেন্দ্রে যান এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় ছিল।
ভোটের দিন সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন। চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালি এলাকায় দুষ্কৃতীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বিএনপির বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জামাত-ই-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল, তবে সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। কুমিল্লার লাকসামের বরুড়া এলাকার কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-র মণিপুর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে বিরোধী সমর্থকদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি করেন জামাত আমির। যদিও তিনি জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তাঁর কথায়, অতীতে সব দলের অংশগ্রহণে যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে, তার তুলনায় দুপুর ১টা পর্যন্ত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি সভাপতি তারেক রহমান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোট না হলে ফলাফল মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দল পরিকল্পিতভাবে প্রভাব খাটাচ্ছে। ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ব্যালটে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথাও জানান।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, দেশের ভেতর থেকে ৬ লক্ষ ৪৮ হাজার পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারদের কাছে জমা পড়েছে। কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, অধিকাংশ জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।
তবে কুমিল্লায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন একের পর এক ককটেল ফাটানো হয়। কুমিল্লা-১১ আসনের এই কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে বিস্ফোরণের পর ভোটাররা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামাতের তরফে দাবি করা হয়েছে, দেশজুড়ে অবাধে রিগিং চলছে। নির্বাচন কমিশনের হাতে ১০০টিরও বেশি ভিডিও ফাইল জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ওই ভিডিওগুলিতে কারচুপির প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি জামাত নেতৃত্বের। শুধু কুমিল্লাতেই প্রায় ৩০টি বুথ থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
