Skip to content
মার্চ 7, 2026
  • Facebook
  • Instagram
  • YouTube
  • Linkedin
  • WhatsApp Channel
  • Google Play
cropped-Onkar-Bangla-New-Web-Cover.psd-1.png

Onkar Bangla

Broadcasting (2)
Primary Menu
  • কলকাতা
  • পশ্চিমবঙ্গ
    • উত্তরবঙ্গ
    • বর্ধমান
    • পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
    • হাওড়া ও হুগলি
    • পুরুলিয়া বীরভূম বাঁকুড়া
    • উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • নদিয়া মুর্শিদাবাদ
  • দেশ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • সম্পাদকের পাতা
    • এডিট
    • পোস্ট এডিট
    • বইপত্র
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফ স্টাইল
  • ভ্রমন
  • পাঁচফোড়ন
  • লাইভ
  • ভিডিও
  • যোগাযোগ করুন
  • Home
  • সম্পাদকের পাতা
  • পোস্ট এডিট
  • কোন পথে ‘২৫ এর বাংলাদেশ

কোন পথে ‘২৫ এর বাংলাদেশ

Online Desk মে 25, 2025
BNG.jpg

গৌতম রায়

বাংলাদেশে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাকে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন মহম্মদ ইউনূস। অতীতে বাংলাদেশে যে কয়েকবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৈরি হয়েছিল, তার সংস্থান তাঁদের মহান সংবিধানে ছিল। কিন্তু ইউনূস যেভাবে ক্ষমতা দখল করেন, তার কোনও সাংবিধানিক সংস্থান বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে নেই। ক্ষমতা দখল করবার পর গায়ের জোরে ইউনূস গ্যাং বাংলাদেশের উচ্চ ন্যায়ালয় থেকে এমন কিছু অনুকূল আদেশ জারি করে, যার দ্বারা নিজেদের এই অবৈধ সরকারকে তারা একটা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে।

এই অবৈধ সরকার নিজেদের পরিচালিত করবার ক্ষেত্রে এমন কিছু লোকেদেরকে জড়ো করে, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। বস্তুতপক্ষে ইউনূসের এই অবৈধ সরকারের পরিচালক এবং সমর্থক দের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ তৈরি হবার ঘটনার বিরোধী। মানসিকতায় এরা বেশিরভাগই পাকিস্তানের নীতি, ভাবধারা- এগুলির ঘোরতর সমর্থক।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে তারা কোনওভাবেই সমর্থন করতে পারে না। ইসলামীয় মৌলবাদ হল এদের চিন্তা চেতনার প্রধান বিষয়। হানাদার পাক বাহিনীর সহযোগী যে সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার করেছিল, এরা তার কঠিন কঠোর সমালোচক। কোনও অবস্থাতেই ইসলামীয় মৌলবাদী শক্তি জামাতে ইসলাম বা তাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগীদের প্রতি সরকার কঠোর মনোভাব পোষণ করুক, এটা তারা চায় না ।

শুধু এখানেই শেষ নয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর মুসলিম মৌলবাদীদের অত্যাচারের ছাড়পত্র কার্যত এই অবৈধ সরকার দিয়েছে। ফলে এই সরকার সে দেশের ক্ষমতা ভার গ্রহণ করবার পর সেখানকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা একেবারে প্রান্তিক সীমাতে এসে দাঁড়িয়েছে। এখানেই শেষ নয়। যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে, যাঁরা কোনও অবস্থাতেই সাম্প্রদায়িক অবস্থান নেন না, সেই সমস্ত মানুষদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে এই সরকার নানা ধরনের জুলুমবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বিগত প্রায় নয় মাস ধরে।

অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশের অর্থনীতির শুধু চরম সংকটের মুখে এসে দাঁড়ায়নি, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিও প্রশ্নচিহ্নের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকা এবং পাকিস্তানের মুক্তাঞ্চলে বাংলাদেশকে পরিণত করবার যে চেষ্টা গত ৮ মাস ধরে ইউনূস করে গেছেন তাতে কেবলমাত্র মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অসম্মান জানানো হয়নি, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্ম বলিদানকেও অসম্মান জানানো হয়েছে। তার পাশাপাশি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্বটাই একটা বড় রকমের প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এনে দাঁড় করানো হয়েছে। অতীতে সাংবিধানিক উপায় যে কয়েক দফায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতাশীন হয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেকেই প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সেসব সরকারের কার্যকালের একটা সুনির্দিষ্ট মেয়াদ বাংলাদেশের সংবিধানের নির্দিষ্ট করেছিল। কিন্তু ইউনূস, সংস্কারের নাম করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখার ছলচাতুরি করে চলেছেন।

এর পাশাপাশি, একদিকে বিদেশি নাগরিকদের নিজের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক, সর্বোপরি রাজনৈতিক অস্তিত্বকে একটা প্রচন্ড অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। যেসব বিদেশী নাগরিকদের তিনি তার উপদেষ্টা পর্ষদে নিয়েছেন, তাদের কারোরই কোনও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। সামাজিক ক্ষেত্রেও তাদের অভিজ্ঞতা একদেশদর্শিতার দোষে দুষ্ট। মুক্তি যুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করে, দেশটাকে কার্যত আবার পাকিস্তানের ছায়া উপনিবেশে পরিণত করাই হল এদের মূল লক্ষ্য।

বলা যেতে পারে, গত কয়েক মাসে সেই লক্ষ্য পূরণে ইউনূস এবং তার গ্যাং অনেকটাই সফল। তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে গত কয়েক মাস ধরে ইউনূস একটা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে সক্ষম হয়েছে। নানা ধরনের রাজনৈতিক টালবাহনার মধ্যেও ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে উষ্ণতা জিয়াউর রহমান, এরশাদ, এমনকি খালেদা জিয়ার আমলেও ছিল, সেই পরিস্থিতিটাকে একেবারে একটা তিক্ততায় পর্যবসিত করেছেন ইউনূস।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী যে শক্তিগুলি বাংলাদেশে খুব সুপ্ত অবস্থায় ছিল, সেই সমস্ত শক্তিগুলির বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান উপকরণ হচ্ছে ভারত বিদ্বেষ। পাকিস্তানে ফৌজি শাসকরা যেরকম আইয়ুব খানের সময়কাল থেকে পারভেজ মোশাররফ, প্রত্যেকেই নিজের অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে, এক দিকে সাম্প্রদায়িকতা, অপরদিকে ভারত বিদ্বেষকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করত, ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশে ইসলামীয় মৌলবাদীদের নতুন করে উৎসাহিত করে, নিজের মসনদকে স্থায়ী করবার লক্ষ্যে ইউনুস ব্যবহার করেছে এই ভারত বিদ্বেষকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে যে কোনও রাজনৈতিক উদ্যোগ, সামাজিক উদ্যোগ, সিভিল সোসাইটির কার্যক্রম –সমস্ত কিছুকেই নিষিদ্ধের তালিকায় ধীরে ধীরে গত আট মাসে বাংলাদেশে এনে ফেলেছে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বস্তুত ইউনুস বিশ্বাসী নন। মুক্তিযুদ্ধ যখন বাংলাদেশের মাটিতে মাথা তোলে ইউনুস তখন চট্টগ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কখনও কোনও অবস্থাতেই এই ব্যক্তিটির কোনও রকম সম্পর্ক ছিল না। ইউনূসের যে পেশাগত কর্মকাণ্ড, তাতে তার সঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সুসম্পর্কের দিকটি এতটাই প্রবল ছিল যে, প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টনের পত্নী হিলারি ক্লিন্টন, ইউনূসের হয়ে একাধিক বার ওকালতি করেছিলেন বাংলাদেশের দেশছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। একাধিকবার হিলারী ক্লিন্টন হাসিনাকে অনুরোধ করেছিলেন, ইউনূসকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে।

ইউনূস একটা সময় তার এই মাইক্রোফিনান্স, গ্রামীণ ব্যাংক এই সমস্ত কিছুকেই ফলপ্রসূ করে তুলেছিল শেখ হাসিনার সরকারের সহযোগিতায়। বস্তুত এরশাদের শাসনকালে মার্কিন অঙ্গুলি হেলনে যেভাবে বাংলাদেশে একটা এনজিও রাজ স্থাপিত হয়েছিল, তাকে এক কথায় প্রতিহত করা শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। এনজিওগুলি বাংলাদেশ সরকারের অর্থনীতির সমান্তরাল একটি অর্থনীতি কায়েম করতে সক্ষম হয়েছিল। এই এনজিওগুলির মূল লক্ষ্য ছিল, সাধারণ মানুষকে রাজনীতি বিমুখ করা। রাজনীতির বিষয়গুলি নিয়ে সাধারণ মানুষ চিন্তা ভাবনা করুক, তাদের এক্ষেত্রে বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটুক, এটা এই এনজিওগুলি কোনওদিনই চায়নি। তারা নানাভাবে ছোট ছোট ব্যবসার মধ্যে দিয়ে মানুষকে স্বনির্ভর হওয়ার একটা প্রত্যাশা জাগিয়েছিল। চাষী যাতে কখনও ডাক্তার, উকিল, ইঞ্জিনিয়ার না হতে চায়, সে কেবল হাঁস- মুরগি পালনেই মনোনিবেশ করে– এটাই ছিল এনজিওগুলির মূল লক্ষ্য। সে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনীতির সার্বিক বিকাশ না ঘটিয়ে, একটা খেয়ে পরে থাকার মতো পরিস্থিতি কায়েম করতে চেয়েছিল এই এনজিওগুলি। আর এভাবেই তাদের লক্ষ্য ছিল, রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রণটা আমেরিকার তল্পিবাহক লোকেদের হাতের তালুর মধ্যে থাকুক।

রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক, প্রত্যেকটি এনজিওরই এটা ছিল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সফল করবার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী যে সমস্ত শক্তি বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছে, তারা তাদের নানাভাবে তোল্লাই দিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা এদের পছন্দ না করলেও, প্রথম অবস্থায় এদের প্রতিহত করবার মতো রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি তাঁর কাছে ছিল না। কিন্তু যখন তিনি এই এনজিও-রাজকে খতম করবার দিকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক এবং সামাজিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন ,ঠিক তখনই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করবার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান এবং আমেরিকা এই এনজিওগুলির মাধ্যমে তাদের কার্যকলাপ শুরু করে দেয়।

সেই কার্যকলাপেরই পরিণতি হচ্ছে ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট। সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নামে অরাজকতা। পাকিস্তান আর আমেরিকার তল্পিবাহকদের ক্ষমতা দখলের একটি অছিলা মাত্র। তাদের মূল লক্ষ্য- বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানমুখী করে তোলা। আরো স্পষ্ট ভাবে বললে, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছায়া উপনিবেশে পরিণত করা। কারণ, আমরা দেখেছি, ইউনূস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করবার অব্যবাহিত পরেই বাংলাদেশের বুকে পাকিস্তানের সমর্থকরা জিন্নার জন্মজয়ন্তী পর্যন্ত পালন করেছে। নানাভাবে পাকিস্তানের সরকারি আধিকারিকেরা বাংলাদেশের মাটিতে আসতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র প্রসারণে পাকিস্তান যেভাবে উৎসাহ প্রকাশ করেছে আর ইউনূস তাকে যেভাবে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তা থেকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারা গিয়েছিল, বাংলাদেশকে কোন পথে তিনি নিয়ে যেতে চাইছেন।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশের নানা ধরনের সঙ্কটে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের আমলেও ভারত যে ধরনের বাণিজ্যিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তার প্রতি বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা কোনওদিন কোনওরকম নূন্যতম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি। একশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যম এবং সমাজ মাধ্যমে একদল বেতনভোগী লোকের মাধ্যমে ইউনূস নিজেকে একজন যোগ্যতম শাসক হিসেবে প্রচার করবার লক্ষ্যে এই প্রচারটিও করতে শুরু করে যে, সে ক্ষমতায় অবিসংবাদিতভাবে থেকে যাওয়ার যোগ্য। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের মুহূর্তে যে ধরনের লোক দেখানো রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের আভাস ইউনূস দিয়েছিল, অচিরেই সেই জায়গা থেকে সরে গিয়ে, অবৈধভাবে ক্ষমতা করায়ত্ব করে, সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করবার দিকে ইউনুসের প্রবণতা ক্রমশ পরিস্কার হয়ে উঠতে থাকে।

 

এই কাজে তার সহায়ক হয়ে ওঠে একদল তথাকথিত ছাত্র, যারা আন্দোলনের নামে অরাজকতার মধ্যে দিয়ে আমেরিকা এবং পাকিস্তানকে বাংলাদেশে তাদের অবাধ তাণ্ডব নৃত্য করার সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষকে অরাজনৈতিক দিকে পরিচালিত করবার যে নীতি এবং লক্ষ্য এনজিওগুলি ছিল, সেই লক্ষ্য প্রয়োগের দিকেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে পরিচালিত করতে থাকে ইউনূস। এই লক্ষ্যের প্রয়োগ বস্তুত আমেরিকা বাংলাদেশের উপরে করতে শুরু করেছিল সাতের দশকের মধ্যবর্তী সময় থেকে। পরবর্তীকালে আটের দশকে সূচনা পর্ব থেকে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত তীব্রভাবে বাংলাদেশের উপরে চাপিয়ে দিতে থাকে আমেরিকা। আর ইউনূস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে প্রথম থেকেই এই প্রক্রিয়াকে কার্যকরী করবার দিকে সবরকম ভাবে আত্মনিয়োগ করে।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি, বামপন্থী শক্তি- এঁরা হয়ে ওঠে ইউনূসের সবথেকে বেশি চক্ষুশূল। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করবার লক্ষ্যে আন্দোলনের নামে যে অরাজকতা বাংলাদেশে চলেছিল, তাকে আর যাই হোক কোনও অবস্থাতেই সুস্থ রুচির আন্দোলন বলতে পারা যায় না। গণআন্দোলন তো নয়ই। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে গণ-আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করে, তাকে একটা বিপ্লবাত্মক কাজকর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে, এক ধরনের কেতাবী, বাতেলাবাজ, অতিবাম বলে নিজেদের দাবি করা লোকজন জঘন্যতম প্রচার কার্য চালাতে থাকে। এই কাজে নেতৃত্ব দেয় মহান মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের আকচা আকচি’ বলে অভিহিত করা বদরুদ্দিন উমর।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এরকম একটি চক্র গোটা বাংলাদেশ জুড়ে আস্ফালন শুরু করে দেয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক চেতনাকে কার্যত অস্বীকার করে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে অস্বীকার করে। সার্বিকভাবে তারা অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগকে। মুক্তিযুদ্ধকে অবহেলার মধ্যে দিয়ে গোটা বাংলাদেশকে ইসলামীয় মৌলবাদীদের অবাধ বিচরণ ভূমিতে পরিণত করে ফেলা হয়। সমস্ত রকমের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সেখানে পদদলিত করা হয়। ফ্যাসিবাদ আর আওয়ামী লীগকে সমর্থক হিসেবে দেখাবার মধ্যে দিয়েও একটা বড় রকমের রাজনৈতিক অভিসন্ধি এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে অস্বীকার করে, মুসলিম জাতীয়তাবাদ, যার ভিত্তিতে ‘৪৭ এ ভারত ভাগ হয়েছিল তাকে প্রতিষ্ঠিত করবার লক্ষ্যেই এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

যেদিন শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, ঠিক সেই রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় বহুত্ববাদী চিন্তা বাংলাদেশে যা প্রচলিত ছিল, প্রতিষ্ঠিত ছিল, তার উপরে বিভৎস আক্রমণ। মুক্ত বুদ্ধির চিন্তার উপর বিভৎস আক্রমণ। কোনওরকম বিরুদ্ধ মতকে যে অবৈধ ক্ষমতা দখলদারেরা কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করবে না, সেটা শেখ হাসিনার বিদায়ের অল্প সময়ের মধ্যেই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। একদিকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার, অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সমস্ত ধরনের মানুষের উপরে অত্যাচার। যাঁরাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাঁদেরকেই দাগিয়ে দেওয়া হয়, আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক হিসেবে।

আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের ঐতিহাসিক অবদান আছে। এই দলটিকে দুর্নাম করার উদ্দেশ্যে এমন ধরনের কাজকর্ম অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা প্রথম থেকে শুরু করে দেয় যা থেকে খুব পরিষ্কার হয়ে যায়, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমটি। একের পর এক রাজনৈতিক কর্মী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, কবি, সাহিত্যিক- যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষে কথা বলতে থাকেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করবার কথা বলতে থাকেন, তাঁদের উপরেই নেমে আসে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। যাঁরা বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে কথা বলতে থাকেন, তাঁদের উপরে নেমে আসে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় অত্যাচার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগের ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে, গোটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে গুলিয়ে দিয়ে তাঁকে ইতিহাসের এক খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপিত করবার অপচেষ্টা শুরু হয়ে যায়।

গোটা বাংলাদেশ জুড়ে চলতে থাকে ধ্বংসযজ্ঞ। তার সঙ্গে চলতে থাকে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার। ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এরপর প্রবাসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক সংলাপ উচ্চারণ করছেন তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে –এই অপবাদকে সম্বল করে ইতিহাসের অংশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। বাড়িকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অপকর্ম রোখবার জন্য কোনওরকম ভূমিকা পালন করা হয়নি।

অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সম্পর্কে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের ধৈর্যসীমা বাঁধ ভেঙেছে সে দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে। সাধারণ মানুষ তাঁদের গত আট-নয় মাসের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে বুঝেছেন, আওয়ামী লীগ ঘিরে কিছু বক্তব্য থাকলেও, কিছু খুব বিক্ষোভ থাকলেও, ইউনূস গ্যাংদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটি সম্পর্কে যে ধরনের প্রচার, তা বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের ছায়া উপনিবেশে রূপান্তরিত করবার একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ। আমেরিকা এবং পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর দল যেভাবে একদিকে হিন্দু মুসলমানের সমন্বয়ী সাংস্কৃতির উপর আঘাত করেছে, ক্ষমতা দখল করবার পর বাংলাদেশ জুড়ে মাজার ভেঙেছে ,যারা বহুত্ববাদের পক্ষে নানা ধরনের সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে, তাঁদের উপর রাষ্ট্রীয় অত্যাচার চালিয়েছে, মামলা করেছে, আদালতে সোপার্দ করেছে, জেলে পুরেছে– তা বাংলাদেশের মঙ্গল করবে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের এহেন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষদের একটা বড় অংশের মধ্যে এই অবৈধ ক্ষমতা দখলদার ইউনূস সম্পর্কে মোহ-মুক্তি ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। সম্ভবত ইউনূসর অপকর্মের কফিনে শেষ পেরেকটি ইউনূস নিজেই পুঁতেছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের যদি কোনও আপত্তি থাকে, ক্ষোভ থাকে, সেগুলি তাঁরা ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করবেন। ভোটের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার বিচার হবে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার বিচার কখনও ইউনূসের বৈঠকখানা থেকে নির্ধারিত হবে না।

কিন্তু ঠিক আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানের আঙ্গিকেই পাকিস্তান আমলে অনুষ্ঠিত নীতিগুলির প্রয়োগ ঘটিয়ে ইউনূস আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। তাঁদের নির্বাচনী নিবন্ধন নিষিদ্ধ করবার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সম্পর্কে তথাকথিত মোহকে দূর করেছে, অপরদিকে বাংলাদেশের মাটিকে আমেরিকা এবং পাকিস্তানের মুক্তাঞ্চল করে দেওয়ার জন্য যে প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাকৃত করে, অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল ইউনুস, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবার কাজ করা ইউনূসের পক্ষে আর বাংলাদেশের সদা জাগ্রত নাগরিক সমাজের ভূমিকা জন্য মসৃণ ভাবে করা সম্ভব হবে না- এটাকে খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরে গেছে ইউনূস গ্যাং।

সেভেন সিস্টার থেকে মানবিক করিডর হয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ –এ সমস্ত কিছু আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যে ভয়ঙ্কর নোংরা ষড়যন্ত্র, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস করছে এবং আমেরিকার কাছে বাংলাদেশের পার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার দ্বারা এই অবৈধ ক্ষমতা সে হস্তগত করতে পেরেছে– এটা সম্পর্কে আজ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অবগত হয়ে উঠেছেন। এমনকি বিএনপির মত রাজনৈতিক দল, তারাও ইউনূসের এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঘিরে খুব একটা ইতিবাচক অবস্থানে এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সম্পর্কে নিতে পারছে না। গোটা বামপন্থী শক্তিকে আজ ইউনূস কারা অন্তরালে নিয়ে গেছে।

এই সব থেকে বুঝতে পারা যায়, আমেরিকা এবং পাকিস্তানের মদতে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলেও বামপন্থীদের সম্পর্কে আজও কোথায় আতঙ্ক এবং ভয়, এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারির আছে। এইরকম একটি পরিস্থিতিতে একদিকে সেনাবাহিনীর প্রবল চাপ আর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর, গোটা বাংলাদেশ জুড়ে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের প্রবল চাপ। অপরদিকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ, অসাম্প্রদায়িক- ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের মানুষ, তাঁদের সমস্ত চাপ মিলিয়ে এখন ইউনূস নিজের পিঠ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি পদত্যাগের হুমকি দিয়ে একটা সহানুভূতি কুড়োতে চাইছেন। অপরদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং পাকিস্তানের আরও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার প্রত্যাশায়তে নিয়েই পদত্যাগের নাটক — তার ইচ্ছা হিসেবে মঞ্চস্থ করতে চাইছেন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীকে বাংলাদেশের মাটিতেই বিচার করবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সেখানকার গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে, সমস্ত রকমের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অবরুদ্ধ করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একেবারে বিপরীত মেরুতে ঘুরিয়ে দিয়ে, দেশটাকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করবার এই দুষ্ট ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ ‘ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত’ই নেবে। এই হুমকি ইতিমধ্যে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাও।

Post Views: 290

Continue Reading

Previous: সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার দুই বাংলাদেশি সহ ভারতীয় দালাল
Next: চলছে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা, তার মাঝে অন্য মহিলার সঙ্গে ছবি পোস্ট সমাজমাধ্যমে, ছেলেকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন লালুপ্রসাদ

সম্পর্কিত গল্প

BN.jpg

বাংলাদেশের নির্বাচনের মুলমন্ত্র কী সংখ্যালঘু বৈষম্য ! ইসলামকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্থানে কোন দিকে বাংলাদেশ ?

Online Desk ফেব্রুয়ারি 8, 2026
Survey.jpg

বাজেটের আগে স্বস্তি কেন্দ্রের, চলতি আর্থিক বছরে দেশের জিডিপি বেড়ে ৮.২ শতাংশ

Online Desk জানুয়ারি 30, 2026
Modi.jpg

স্বদেশী আন্দোলনের মন্ত্রে জাতির বিভাজনের বীজ বুনেছিল কংগ্রেস : নরেন্দ্র মোদী

Online Desk ডিসেম্বর 8, 2025

You may have missed

20260307_150934.jpg

শনিবার থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Online Desk মার্চ 7, 2026
Screenshot-2026-03-07-132037.png

বিলের সাথে মিলছে না ওষুধের ব্যাচ নাম্বার ! সংশয়ে ক্রেতারা

Online Desk মার্চ 7, 2026
WhatsApp-Image-2026-03-07-at-12.04.00-PM.jpeg

ইতিহাস বহনকারী বৃদ্ধ রোড রোলার আজ ধ্বংসস্তূপ

Online Desk মার্চ 7, 2026
20251025_210859.jpg

প্রাক্তন স্ত্রীর জন্য উপহার কিনতে ২.৫ লক্ষ টাকা চুরি করে বন্ধুকে খুন, অবশেষে গ্রেফতার

Online Desk মার্চ 7, 2026
  • Get in Touch
  • Privacy Policy
  • Facebook
  • Instagram
  • YouTube
  • Linkedin
  • WhatsApp Channel
  • Google Play
Copyright © All rights reserved. | Designed and Maintained by UQ Labs.