
ওঙ্কার ডেস্ক: চিন সফরে গিয়ে করা মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হল বিজেপি, কংগ্রেস-সহ ভারতের একাধিক রাজনৈতিক দল। সেই সঙ্গে ভারত সরকারের বিদেশ নীতি নিয়েও সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধীরা।
ঠিক কী বলেছিলেন মহম্মদ ইউনুস?
সম্প্রতি চারদিনের চিন সফরে গিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। বেজিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করে ন’টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। সেই সফরের একটি ভিডিয়ো সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ইউনুসকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ভারতের পূর্ব দিকে সাতটি রাজ্যের চারদিকে শুধুই স্থলভাগ। সমুদ্রে আসার কোনও রাস্তা নেই৷ এদের সাতটি বোন বলে ডাকা হয় ৷ এখানে সমুদ্রে একচ্ছত্র আধিপত্য আমাদেরই ৷ তাই এই অংশে (চিনের) বাণিজ্যের একটা বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে ৷ এই জায়গাটি ব্যবহার করে চিন তাদের অর্থনীতির প্রসারণ করতে পারে ৷ (চিন) জিনিসপত্র তৈরি করুক, বাজারে বিক্রি করুক ৷ এই সমুদ্র পথে চিনে পণ্য নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সেখান থেকে বিশ্বের সর্বত্র সেইসব সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া যায় ৷’
এই ভিডিও সামনে আসতেই ভারতের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সোমবার এই ভিডিয়োটি শেয়ার করে লেখেন, ‘ভারতকে ঘিরে রাখতে বাংলাদেশ চিনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ৷ বাংলাদেশ সরকারের এই মানসিকতা উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুর নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করছে না ৷ এদিকে চিন ইতিমধ্যে অরুণাচলে গ্রাম তৈরি করে ফেলেছে ৷ আমাদের বিদেশ নীতির অবস্থা খুব শোচনীয় ৷ যে দেশ গড়ে তোলার নেপথ্যে ভারতের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে, সেই দেশই আজ আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করছে ৷’
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ৷ তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের তথাকথিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মহম্মদ ইউনুস তাঁর মন্তব্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে স্থলভাগে আবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন ৷ তিনি বাংলাদেশকে সমুদ্রের অভিভাবক বলেছেন ৷ এই মন্তব্য আপত্তিকর ৷ এর তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি ৷ এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যকে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত না ৷ ওদের কৌশলী চিন্তাভাবনার সূত্র অনেক গভীরে প্রোথিত ৷ এই স্বার্থ দীর্ঘদিনের ৷’
মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সংবাদসংস্থাকে বলেন, ‘এই মন্তব্য অত্যন্ত লজ্জার ৷ তিনি চিনের বাণিজ্যের জন্য আমাদের দেশের কয়েকটি অঞ্চলের নাম নিয়েছেন ৷ আমার মনে হয়, এই বিষয়ে ভারতের এবার কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷ দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিপন্ন ৷’
প্রসঙ্গত গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার পর বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এবার সেদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের তিক্ততা আরও বাড়ল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।