ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও চর্চায় উঠে এসেছে বিষয়টি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পরেও সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পদেরহাট ইউনিয়নের উত্তর বড়াইখালি গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে এক হিন্দু পরিবারের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লুটপাট করা হয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা হয়। বাড়ির মালিক ৪৫ বছর বয়সি রঞ্জিত দাসকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লিগ অংশ না নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ইউনূস পরিচালিত অন্তরবর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চরম ভাবে বেড়াছিল। গত বছরের শুরুতেই সংখ্যালঘু শ্রমিক দিপুচন্দ্র দাসের হত্যাকান্ড সাড়া ফেলে দিয়েছিল বিশ্বজুড়ে। দিপুচন্দ্র দাসের পাশাপাশি লিটন দাস ছারাও আরও অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার কথা সামনে আসতে থাকে। বংলাদেশে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আশা করা হয়েছিল দেশে শান্তি ফিরবে। ক্ষমতায় এসে সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া হলেও মাটির স্তরে পরিস্থিতি যে পুরোপুরি বদলায়নি, এই ঘটনায় সেই প্রশ্নই উঠে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গ্রামাঞ্চলের কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এখনও সক্রিয়। প্রশাসনের নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের অভাবেই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। যদিও প্রশাসনের তরফে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবু সংখ্যালঘু পরিবারগুলির মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাটছে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা অতীতেও দেখা গিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরেও কেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস নয়, প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা আরও উদ্বেগ বাড়াবে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবি, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
