ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ আনু মহম্মদ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে দেশদ্রোহী বলে কটাক্ষ করেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্যত্তম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্ব বিদেশী কোম্পানীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসতেই বন্দরের কর্মী শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। সেই প্রসঙ্গে ইউনুসের অবস্থানকে দেশের মানুষের হিতের পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্যে রীতিমত শোরগোল পরে গেছে পদ্মাপারের রাজনীতিতে।
ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মঙ্গলবার বিকেলে এক সংহতি সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি করার মতো কোনও সাংবিধানিক ক্ষমতা বা এখতিয়ার নেই। তবুও তাড়াহুড়ো করে এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের উচিত একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে স্পষ্ট করা কেন এবং কী স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার এমন চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত সরকারি ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বানও তোলেন তিনি।
আনু মুহাম্মদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং জনস্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। তার দাবি, একটি বিদেশি কোম্পানির হাতে টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ গেলে বন্দর থেকে সরকারের আয় কমে যাবে এবং পরিষেবা খরচ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির পথ সুগম করতেই কয়েক দিন আগে সব ধরনের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অর্থনীতিবিদের মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি অস্বচ্ছতা, অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান নিয়ম ভঙ্গ করে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী পরিচয়ে বিদেশি কোম্পানি ও বিদেশি রাষ্ট্রের লবিস্টদের সরকারে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক।
এদিকে একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরাও অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন। বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন। বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টার কর্মবিরতির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ সমাপ্তির আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মকর্তাদের ঢাকায় আটকে রেখে জোর করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন শিথিল করার কোনও সুযোগ নেই বলেই তারা জানিয়েছেন। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
