বিপ্লব দাশ : বাংলার রাজনীতিতে এ এক অভিনব তর্জা। বিষয়- প্রেসবক্সের ব্যাকড্রপ। তলে তলে তা এতটাই ছড়িয়েছে যে বঙ্গ রাজনীতিতে এই নিয়ে এখন নতুন খোরাক। এবং তা রাজ্যের দুই যুযুধান দলের মধ্যেই। বিষয়টা এবার খুলে বলা যাক। সমীক ভট্টাচার্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর যে কয়েকটি নতুনত্বের ইংগিত দিয়েছেন, তার মধ্যে একটি- ব্যক্তি নয় দল বড়। এরমধ্যে একটা সুদূরপ্রসারী কৌশল কাজ করলেও করতে পারে। কিন্তু এখানে বিষয়টি বেশ অভিনব এবং রাজনৈতিক ভাবে এক বিশেষ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম উদাহরণ। তা এই ব্যক্তি নয়, দল বড় এটা বোঝাতে গিয়ে তিনি যে প্রথম পরিবর্তনটা আনলেন তা দেখা গেল বিজেপির মিডিয়া সেন্টারে। তা হল ব্যাকড্রপের পরিবর্তন। যেখানে নেই নেতাদের মুখ, শুধুই সিম্বল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ব্যাকড্রপ। যেভাবে দেখা যায় তৃণমূল ভবনের মিডিয়া সেন্টারে। আর এতেই সংযোজিত হল বঙ্গ রাজনীতির এক অভিনব তর্জা। তৃণমূল বলতে শুরু করেছে, বিজেপির এই পরিবর্তন তাদেরই অনুকরণে। ফলে বঙ্গ বিজেপি এতদিনের রীতি বদলের সাহস দেখালেও অনুকরণের প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তিতে কী !
রাজ্যসভার সাংসদ সমীক ভট্টাচার্যের সম্বোধন করা একটি ভিডিও ৫ জুলাই বাংলা বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া X হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছিল। এতে কেবল দলের পদ্ম প্রতীক এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সহ পটভূমি দেখানো হয়েছিল। এরপরই তা বদলে যায়। রাজ্য বিজেপির সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই পরিবর্তন সকলের চোখে পড়ে। আর সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল দাবি করে, তাদের আদর্শই বিজেপি হাইজ্যাক করেছে। বিজেপি অবশ্য প্রকাশ্যে এই দাবিকে পরোয়া করছে না। তাদের বক্তব্য, এটি একটি “শক্তিশালী পরিবর্তন”। এবং তা শুধুমাত্র ব্যাকড্রপেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি দলীয় আদর্শকেই প্রতিফলিত করে, যা হল- “প্রথমে জাতি, দল দ্বিতীয়, শেষে ব্যক্তি”।
বিজেপি একে ব্যক্তিত্বের চেয়ে সম্মিলিত নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা এবং মূল্যবোধের সত্যিকারের উদযাপন বলে অভিহিত করলেও, তৃণমূল কিন্তু একে একটি মৌলিক ধারণা বলে মেনে নিতে পারছে না। তাই তারা বিজেপির এই পরিবর্তনকে ‘নকল’ বলে ধরছে। বলছেও। এমন কি তৃণমূলের আদর্শ চুরি করার অভিযোগ এনেছে। ফলে দুই দলের ব্যাকড্রপ নিয়ে আদর্শগত কাজিয়া শুরু হয়েছে।
