ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের ছক কষছে লস্কর-ই-তৈবা, এমন কথা শোনা যচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর তরফ থেকে। সেই ঘটনা নিয়ে দেশে নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে জোর কদমে কাজ শুরু করে প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ঘটনার আবহেই শনিবার পাঞ্জাব এবং কাশ্মীরে বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে আসে।
গোয়েন্দা সতর্কবার্তার আবহে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তার মধ্যেই পাঞ্জাব এবং জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। যদিও এই দুটি ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনও জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার যোগসূত্র এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সময়ের প্রেক্ষিতে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী।
পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে একটি পুলিশ পোস্টের কাছ থেকে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের নজরে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে বোম্ব স্কোয়াড ডেকে ব্যাগটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার মধ্যে একটি আইইডি রাখা ছিল। দীর্ঘক্ষণ সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে বোম্ব নিষ্ক্রিয়করণকারী দল সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে
অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাফাপোরা, যা গান্দেরবল জেলার অন্তর্গত, সেখানেও যৌথ বাহিনীর তল্লাশিতে একটি আইইডি উদ্ধার হয়। সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে। বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করার পর পুরো এলাকা স্যানিটাইজ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে উপত্যকায় একাধিক সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রে আগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল যে, রাজধানী দিল্লিতে নাশকতার ছক কষা হতে পারে। বিশেষ করে জনবহুল ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলি, যেমন চাঁদনি চক এবং লালকেল্লার আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা কোনও বড় হামলার ছক কষতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। সীমান্ত এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি সংবেদনশীল স্থানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
দুই রাজ্যে আইইডি উদ্ধারের ঘটনায় বড়সড় নাশকতা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করছে প্রশাসন। তবে গোয়েন্দা সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে আগামী কয়েকদিন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঢিলেমি থাকবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক সূত্রে।
