বিপ্লব দাশ : বাংলার আওয়াজ পৌঁছুলো দিল্লিতে। বাংলা ভাষা মোড়কে বিজেপির ভোটার মেরুকরণের যে নয়া অস্ত্র সুসজ্জিত হচ্ছিল তার ঢাল দেখা গেল জাতীয় স্তরে। বিরোধী জোটের ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে জুড়ে গেল দেশের ভাষা বৈচিত্রের ঐতিহ্য। বাংলা ভাষার অবমাননা রুখতে পাশে এসে দাঁড়ালো হিন্দি, ইংরেজি, মলায়লাম, তামিল, মারাঠি ভাষাভাষী জন প্রতিনিধিরা। এই ইস্যুতে সোমবার দিল্লিতে যেভাবে এককাট্টা হল বিরোধী জোট তাতে গত লোকসভা নির্বাচনের পর ‘ইন্ডিয়া জোট’কে ফের প্রকাশ্যে জেগে উঠতে দেখল দেশের মানুষ। দিনভর যে ধুন্ধুমার উত্তেজনা ছড়াল দিল্লির পথে তাতে এবার নড়েচড়ে ওঠার সময় এসেছে শাসক বিজেপির। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ডাকে এদিন প্রায় তিন শ’ সাংসদ সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও কর্মসূচিতে সামিল হন। এবং যে ভাবে এদিন বিরোধীরা হাতে হাত ধরে সম্মিলিত বিরোধী আওয়াজ তুলল তাতে ভাবতেই হচ্ছে খোলা মাঠের খেলোয়াড়দের।
এমনিতেই সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ঘরে বাইরে কোনঠাসা নরেন্দ্র মোদী। মূলত মার্কিনি পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে ভারতকে। এর দায় এসে পড়ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর। ট্রাম্প টারিফ তো বটে, এর প্রভাবে গাঢ় হচ্ছে অপারেশন সিঁদুরের রাজনীতিকরণ। এই ইস্যুতে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তা যেমন বিরোধী ব্রিগেডের, তেমনি সঙ্ঘ পরিবারেরও। এর মধ্যে নাস্তানাবুদ করেছে পাকিস্তানের কূটনীতি। একই সঙ্গে আমেরিকা ও চিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে পাকিস্তান কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ভারতকে। শুধু এটাই নয়, অনেক চেষ্টা করেও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বিশ্বের কোনো দেশকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে পারেনি দিল্লি। আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের কূটনীতির এই আবহে পরিস্থিতি অনুকূলে নেই দেশের অভ্যন্তরে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে সব কথা উঠছে, যেসব তথ্য সবুদ বেরিয়ে আসছে তাতে মোদী গ্যারেন্টি কতটা কাজে লাগবে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ফলে সামনে্র বিহার নির্বাচন যে মোদীর কাছে একটা বড় অ্যাসিড টেস্ট তা বলাই বাহুল্য। এরপরই বাংলার নির্বাচন। অনুপ্রবেশ ও ভূয়ো ভোটারকে এজেন্ডা করে বিজেপি যে ভাবে এগোচ্ছিল, তাতে বিজেপি নিজের পায়েই কুড়ুল মারলো। বিজেপি শাসিত রাজ্যে একের পর এক বাঙালি নীপিড়ন ভালো চোখে দেখছে না বাংলার মানুষ। ফলে ভূয়ো ভোটার তালিকা থেকে ভূয়ো নাম বাদ দেওয়ার যে নৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েছিল কেন্দ্র তা বাঙালির ভাবাবেগকেই আঘাত করে দিল। সোমবার তারই আওয়াজ শোনা গেল দিল্লির পথে। বাংলা ভাষার অবমাননা হচ্ছে এটা মেনে নিয়ে বিরোধীরা ভারতের ভাষা বৈচিত্রের ইস্যুতে সরব হল।
