ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনার রক্তনালিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে সমস্যা দেখা দেয়, তাকে বলা হয় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। সময়মতো এই রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা না করালে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, এমনকি অন্ধত্বও দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি কী এবং কেন হয়?
চোখের রেটিনা হলো চোখের পেছনের একটি আলোকসংবেদনশীল স্তর, যা আমাদের দেখতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে রক্ত বা তরল বেরিয়ে আসতে পারে, রেটিনায় ফোলাভাব দেখা দিতে পারে এবং নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হতে পারে। এই সমস্যাই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামে পরিচিত। টাইপ ১ ও টাইপ ২—উভয় ধরনের ডায়াবেটিসে এই রোগ হতে পারে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির লক্ষণ কী কী?
রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। যেমন—
চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
চোখের সামনে কালো দাগ, বিন্দু বা সুতোর মতো কিছু ভাসতে দেখা।
সোজা রেখা বাঁকা দেখানো।
রাতে দেখতে অসুবিধা হওয়া।
দৃষ্টির কোনও অংশ অন্ধকার বা ফাঁকা মনে হওয়া।
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
হঠাৎ দৃষ্টি কমে গেলে বা চোখের সামনে অনেক কালো দাগ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উপশম ও প্রতিরোধের উপায় :
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।
২. রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল চোখের রক্তনালির ক্ষতি বাড়াতে পারে। তাই এগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
৩. নিয়মিত চোখ পরীক্ষা: ডায়াবেটিস থাকলে উপসর্গ না থাকলেও চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিয়মিত প্রসারিত মণির মাধ্যমে রেটিনা পরীক্ষা করানো উচিত।
৪. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান বর্জন এবং চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা উপকারী।
৫. প্রয়োজনে বিশেষ চিকিৎসা: রোগের পর্যায় অনুযায়ী চোখে অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন, লেজার চিকিৎসা অথবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
শেষ কথা :
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি একটি গুরুতর চোখের রোগ হলেও সময়মতো শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। তাই ডায়াবেটিসকে অবহেলা না করে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখতে হবে, চোখে সমস্যা দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে আগেভাগে সতর্ক হওয়াই দৃষ্টিশক্তি রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।