ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। রাজ্য বিজেপির প্রভাবশালী নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দলের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে এই তলব বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। মূলত দিলীপ ঘোষের প্রকাশ্য বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতেই শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি সল্টলেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজ্য বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের কৌশল ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। দলের অন্দরমহলে সেই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা দিল্লির নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করে, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে।
এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ শমীক ভট্টাচার্যকে ডেকে পাঠান এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে রাজ্যে পুরনো ও নতুন নেতাদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি, প্রকাশ্য মঞ্চে এমন কোনও বক্তব্য যাতে দলের ভাবমূর্তি বা ঐক্যের প্রশ্ন ওঠে, তা এড়িয়ে চলার নির্দেশও দেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং রাজ্যে একক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
এই তলবের পর থেকেই দিলীপ ঘোষকে প্রকাশ্যে অনেকটাই সংযত দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। দলের অন্দরেও এই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে আপাতত শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে রাজ্য বিজেপির সব নেতা একই সুরে কথা বলুন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়, আবার একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কড়া নজরদারির কথাও সামনে আনে। আসন্ন নির্বাচনের আগে দল কোনওভাবেই প্রকাশ্য মতবিরোধ বা বিভ্রান্তিকর বার্তা রাখতে চাইছে না। সেই কারণেই শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লিতে ডেকে পরিস্থিতি সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
