ওঙ্কার ডেস্ক: দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি নাকি সাতটি দেশের যুদ্ধ থামিয়েছিলেন। সেকারনে এবছরের নোবেল শান্তি পুরষ্কার দাবি করে বসেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় নিজের বন্ধু রাষ্ট্রদের দিয়ে বিজ্ঞাপনও করিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি গাজায় শান্তি চুক্তির দাবিদারও তিনি নিজেকেই করেছেন। গাজার পর এবার ট্রাম্পের নজর আফগানিস্তান পাকিস্তান দ্বন্দ্বের দিকে।
বিগত কিছু দিন যাবৎ বেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ। এখনও পর্যন্ত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি না হলেও চিন্তা বিরাজ করছে দুই দেশের মধ্যে। তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুকাত্তি ছয়দিনের ভারত সফরে থাকাকালীন রাজধানী কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তার পরের দিনই পাক-আফগান সীমান্তে বোমাবর্ষণ করে পাক সেনা। আফগানিস্তানও পালটা জবাবে পাকিস্তান সীমান্তের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে এবং বালুচিস্তানে হামলা চালায়।
কাবুল থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল তালিবান হামলায় মোট ৫৮ জন পাক সেনা নিহত হয় এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়। ইসলামাবাদ এই সংখ্যা নাকচ করে জানায় আফগান হামলায় মোট ২৩ জন পাক সেনা নিহত হয়। তাঁরা আরও দাবি করে, পাকিস্তানি হামলায় ২০০ জনের বেশি তালিবানি সেনা নিহত হয়েছে। পাক-আফগান সীমান্তে মোট ১৯টি তালিবানি ঘাঁটির দখল নিয়েছে পাকিস্তানি সেনা, জানিয়েছেন পাকিস্তানি সেনার স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পাকিস্তানের উপর তালিবানের হামলার সঙ্গে ভারতের যোগসুত্রের দাবিও করেন মুনির।
পাকিস্তান আফগানিস্তানের মধ্যেকার এই অশান্তির কথা ট্রাম্পের কানে যেতেই পু্রানো সুরে গাইতে লেগেছেন তিনি। বিশ্বের কাছে নিজেকে শান্তির প্রতীক হিসাবে তুলে ধরতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইজরায়িল হামাসের শান্তি সম্মেলনে যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, “যুদ্ধ থামানো আমার কাছে সহজ একটা ব্যাপার। আমি নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য নয় মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য করছি”। তিনি জানান, “দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছি আমি। ইজরায়িল হামাস যুদ্ধ নিয়ে আটটি যুদ্ধ থামালাম আমি। এর পর আমার নজর পাকিস্তান-আফগানিস্তান অশান্তির দিকে। দেশে ফিরে সেদিকে নজর দেওয়া যাবে”। তিনি ট্যারিফ প্রসঙ্গে বলেন, “ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুল্কের জোরে থামিয়েছি আমি”। ট্রাম্প বলেন শুল্কের চাপে যুদ্ধ থামানো সম্ভপর হয়েছে। এটি তিনি মানুষের স্বার্থে করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
