ওঙ্কার ডেস্ক: ৫ই সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবস, তাই আজ একটি ছুটির দিনের পাশাপাশি উদযাপনের দিন। এই দিন পড়ুয়ারা গুরুপুজোর সঙ্গে গুরুদক্ষিণা দিয়ে থাকে। আবার কোনও কোনও স্কুলে সেটা আগেরদিনই সেরে ফেলা হয়, যাতে এই ছুটিটা উপভোগ করা যায়। কিন্তু, এই দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে কেন পালন করা হয়, দিনটির ইতিহাস, সর্বপরি ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন কিভাবে এই দিনের সঙ্গে যুক্ত তাঁর কি সংযোগ সেই বিষয়ে সকলের জ্ঞান কতটা সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।
সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের এই দেশের প্রতি কতটা অবদান রয়েছে সে বিষয় অনেকেরই অজনা। দেশের বহু ব্যক্তি আছেন, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরিচিতি পাননি। বাঙালি বলে যাঁদের নিয়ে গর্ব করি, তাঁদেরও অনেকেরই নাম-পরিচয় ও কার্যাবলি জানেন না ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র কিংবা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পাশাপাশি বাংলার বাইরেও বহু মানুষ আছেন, যাঁরা রাজনীতির আড়ালেও বহু কাজ করে গিয়েছেন, যাঁদের কৃতিত্ব অস্বীকার করা সম্ভব নয়।
পরাধীন ভারতে শিক্ষা সংস্কারের অগ্রণী পথিকৃৎ রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন, ৫ সেপ্টেম্বরকে প্রতিবছর শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এর পিছনেও রয়েছে একটি ছোট্ট গল্প। একবার তাঁর জন্মদিনে ছাত্ররা এসে ধরে গুরুর জন্মদিন পালন করবে বলে। কিন্তু, তিনি নারাজ। তিনি তখন বলেন, শুধু তাঁর একার নয়, দেশের সমস্ত শিক্ষকদের এইদিনে বরণ করে নিও তোমরা। আমার একলার নয়, সকল শিক্ষক সমাজকে গুরুর মর্যাদায় পুজো করো। সেই থেকেই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়।
দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের জন্ম ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তামিলনাড়ুর তিরুত্তানির একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় তাঁর। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন। রাধাকৃষ্ণনের বাবা সর্বপল্লি বীরস্বামী ছিলেন রাজস্ব দফতরের অফিসার। তাঁর ইচ্ছা ছিল ছেলে পুরোহিত হবে। তবে ঘটনা কিছুটা অন্যরকম, তিনি স্নাতক স্তরে মাদ্রাজ ক্রিশ্চিয়ান কলেজের ভর্তি হন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে দর্শনে স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। পরবর্তীকালে, তিনি দর্শনে ভর্তি হন। ১৯০৭ সালে এমএ পাশ করেন। দুবছর পর শিক্ষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। ১৯৬২-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার আগে ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি। ১৯৪৭ সালে তিনি ইউনেস্কোতে ভারতীয় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৫৪ সালে ভারতরত্ন পান রাধাকৃষ্ণন। রাধাকৃষ্ণন হলেন সেই মানুষ, যিনি ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতিকে পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে হাত ধরিয়ে ছিলেন। কিন্তু কখনোই পল্লিগ্রামের মাটির স্পর্শকে বিস্মৃত হননি। দেশীয় শিক্ষায় এক নয়া ধ্যানধারণা, সংস্কার ও বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এই শিক্ষাবিদ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, নিতান্তই ভারতে জন্ম বলে সাদা চামড়ার দুনিয়া তাঁকে মোট ২৭ বার নোবেল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল। সাহিত্যে নোবেলের জন্য তাঁর নাম ১৬ বার সুপারিশ করা হয়েছিল এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ১১ বার সুপারিশ পাঠানো হলেও একটিবারের জন্য পরাধীন ভারতের এই দার্শনিক-শিক্ষাবিদ-পণ্ডিত নোবেল পুরস্কার হাতে তুলতে পারেননি।
