ওঙ্কার ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন হিংসামুক্ত করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। সন্ত্রাস মুক্ত ভোট হোক, বাংলার মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটদান করুক, এমনটাই চায় নির্বাচন কমিশন। দুদিনের ঠাসা কর্মসূচীর পর মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কমিশনের ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পাশাপাশি একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
গত রবিবার বাংলায় আসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেন আধিকারিকরা। রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। তারপরই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের মতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশের বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। কোনও উসকানি বরদাস্ত নয়।”
কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি জানান, নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত রাজ্যের আধিকারিকরা যদি ‘দলদাসে’র ভূমিকা পালন করেন, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। কোনও ভোটার বা ভোটকর্মীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে কমিশন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় কোনও উসকানিমূলক প্রচার না রটে সেদিকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কড়া নজর রাখতে হবে।
এবারের ভোটে স্বচ্ছতা আনতে একগুচ্ছ নতুন ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে কমিশন। প্রতিটি বুথেই থাকবে সরাসরি ডিজিটাল নজরদারি। বুথের বাইরে মোবাইল রেখে তবেই ভেতরে ঢুকতে পারবেন ভোটাররা। বিভ্রান্তি এড়াতে ইভিএমে এবার প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে। কোনও প্রার্থীর সন্দেহ হলে ৭ দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষার সুযোগ মিলবে।
পাশাপাশি জানানো হয়েছে প্রত্যেক বিধানসভায় বিশেষ অফিসার থাকবেন, যাঁরা তরুণ ভোটারদের উৎসাহিত করতে ক্যাম্পেন করবেন। বয়স্ক ভোটারদের কথা ভেবে সব পোলিং স্টেশন হবে একতলায়। হুইল চেয়ার ও র্যা ম্পের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। ৮৫ বছরের বেশি বয়স্কদের বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
