ওঙ্কার ডেস্ক : মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু SIR। সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার রাত ১২টার পর থেকেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হল। বাংলা সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে হবে ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ। দ্বিতীয় ধাপের SIR হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, পুদুচেরি, গোয়া, গুজরাত, কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, তামিলনাড়ু ও আন্দামান নিকোবারে।
৯ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর এনুমারেশন ফর্ম ফিল আপের কাজ করা হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে। ৯ ডিসেম্বর খসড়া অর্থাৎ ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জানান যাবে আপত্তি বা অভিযোগ। ৩ জানুয়ারির মধ্যে বাংলা সহ ১২ রাজ্যে শেষ করতে হবে SIR। ৭ই ফেব্রুয়ারী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।
নিরক্ষর ভোটারদের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করবেন BLO-রা। প্রয়োজনে ভোটারদের বাড়িতে ৩ বার যাবেন তাঁরা, এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে ERO, BLO-দের।
SIR- এর জন্য কোন কোন নথি প্রয়োজন ?
নির্বাচন কমিশন সুত্রের খবর, বিদেশি কারোর নাম ভোটার তালিকায় থাকলে তা ম্যাচিং করে খতিয়ে দেখতে হবে। ১৮ বছরের বেশি হলেই ফর্ম পূরণ করে লিঙ্ক করবেন BLO-রা। সমস্যা হলে ভোটারদের বাড়িতে ৩ বার যাবেন BLO-রা এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে ২০০৩, ২০০৪ সালের সঙ্গে ম্যাচিং না হলেই আসবে নোটিশ। তবে আধার কার্ড যে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় তা ফের জানিয়ে দিল কমিশন। এ ব্যাপারে ১১টি নথি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।
১) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র।
২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি।
৩) জন্ম শংসাপত্র।
৪) পাসপোর্ট।
৫) মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র।
৬) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র।
৭) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
৮) জাতিগত শংসাপত্র।
৯) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার।
১০) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার।
১১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।
এদিন জ্ঞানেশ কুমার SIR নিয়ে কার্যত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে সংবিধানের ভিতর থেকেই সমস্ত সাংবিধানিক সংস্থাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা দিতে বাধ্য রাজ্য সরকার। আশা করি, পশ্চিমবঙ্গের সরকারও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগে বাধ্য রাজ্য সরকার।
