ওঙ্কার ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালান ইডির গোয়েন্দারা। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হয়েছিলেন প্রতীকের বাড়িতে। ইডির গোয়েন্দাদের তল্লাশির মাঝে মুখ্যমন্ত্রী একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। যেটা কিনা তদন্তকারীরা বেছে রেখেছিলেন বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার পর জল্পনা তৈরি হয়ে, ওই ফাইলে কী এমন রয়েছে, যাতে এত তৎপরতার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সেটি নিয়ে চলে এলেন ?
ইডি সূত্রে দাবি, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে তারা প্রতীকের বাড়িতে এবং আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিল।প্রতীকের বাড়িতে একটি নামের তালিকা পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক তছরুপের সঙ্গে সেই তালিকায় থাকা কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য ফাইলটি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই সবুজ ফাইলটি নিয়ে বেরিয়ে যান। ইডির দাবি, তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা সত্ত্বেও নথিপত্র নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। আই প্যাকের দফতরে ইডির তল্লাশির পর মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নথি, প্রার্থিতালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে ইডি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ওই ফাইলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সেই তালিকা থাকা একেবারেই অসম্ভব নয়।
তবে বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশির মাঝে মুখ্যমন্ত্রী কেন ঢুকে পড়লেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই, তিনি ‘তৃণমূলের চেয়ারপার্সন’ হিসাবেই সেখানে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, ইডি হানার সময়ে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে গিয়ে কোনও ‘অন্যায়’ করেননি তিনি।
