কিছু কী ঢাকতে চাইছে নির্বাচন কমিশন !
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি নতুন করে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা তৈরির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তার জন্য বেশকিছু নির্দেশিকা জারি হয়েছে। আপাতত এইটুকু বলা যায় আগামী বছর ৪ জানুয়ারি এই নয়া ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে। এইসঙ্গে আরও বেশকিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যাতে এমনটা মনে হবে ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কতই না দায়িত্বশীল ও যত্নশীল। কিন্তু এই তৎপরতা থেকে একটাই কথা মনে হচ্ছে, কোনো ফেল করা ছাত্র যেন বাড়ির অন্যান্যদের কাছে সহানুভুতি পেতে বইপত্রে মুখ গুঁজে বসেছে। কিন্তু যেটা দেখা যাচ্ছে তা হল অত্যন্ত শিশুসুলভ আচরণ। কথা হল, ভোটের পর নির্বাচন কমিশন যেভাবে নড়েচড়ে বসেছে তা ভোটের আগে কেন এইসব কারচুপি মেটাতে তৎপর হল না ? এর পিছনে কি অন্য উদ্দেশ্য কাজ করেছিল ? যা নিয়েই বিরোধীদের দেশ জুড়ে চলছে তুমুল আন্দোলন। তাহলে কি বিরোধীদের অভিযোগই প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ?
এসআইআর চলাকালীন কমিশনের সফ্টওয়্যার যে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছিল, তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সে কারণে এবার এসএসআর-এর জন্য কমিশন সম্ভবত তাদের পুরনো সফ্টওয়্যারেই ফিরে যাচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সিইও-দের দেওয়া নির্দেশে কমিশন স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, এসএসআরের জন্য আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে আবেদন বা আপত্তি জানানো যাবে। তবে কোনও এক জনই পাঁচটি বা তার বেশি আপত্তি জানালে নির্বাচনী আধিকারিক তা যাচাই করে দেখবেন।
এ ছাড়া, একটি পরিবারের সকল সদস্যকে ভোটার তালিকায় একসঙ্গে রাখতে বলেছে কমিশন। আর যাঁরা স্থায়ী ভাবে ঠিকানা বদলে ফেলেছেন, যাঁরা মারা গিয়েছেন, কেবল তাঁদের নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটার বা মৃতের ক্ষেত্রে তার আত্মীয়-পরিজনের কাছ থেকে ফর্ম ৭ জমা পড়তে হবে। অর্থাৎ নিয়ম মেনে ওই ফর্ম জমা না পড়লে কোনও ভাবেই নাম বাতিল করা যাবে না। এখন প্রশ্ন হল, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি না করে কেন অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে ভোট করা হল ? একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে এই ধরণের গুরুতর গাফিলতির দায় কার ? এইসব প্রশ্ন ঘিরে বর্তমানে দেশ জুড়ে যে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে তার পরিণতি কি, সেদিকে তাকিয়েই সাধারণ মানুষ। তবে একটা ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কার্যত বেসামাল।