বিপ্লব দাশ : সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনই যে শেষ কথা সে কথা ফের প্রমাণ করলেন জ্ঞানেশ কুমার। ২৭ তারিখ সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যনির্বাচনী কমিশনার দৃপ্ত কন্ঠে যে ভাবে SIR-এর দ্বিতীয় দফার কার্যক্রম ঘোষণা করলেন তাতে কোনো রাজনৈতিক দলের উচ্চবাচ্যের কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। তাঁর গায়ে যে যেভাবেই হোক গেরুয়া জার্সি পরাক না কেন, SIR যে হচ্ছেই তার আভাস বহু আগেই মিলেছিল। তাই SIR-এর পূর্বকাল যতই সরগরম হোক নে কেন, সংসদীয় রাজনীতি যে সংবিধানিক মানদন্ডে চালিত করতে হয় তা মানছেন সকলেই। তবে আপাতদৃষ্টিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের যে অনিবার্য নিয়ম ও তথ্যের কথা বলা হয়েছে তা আদৌ অমূলক নয়। আশঙ্কিত হওয়ার মতো নয়। এর ফলে যে ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে তা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও রঞ্জিত তা বলাইবাহুল্য। কথা হল, সত্য তার পথেই চলে। কিন্তু তার প্রয়োগ সময়কে প্রভাবিত করে।
এই প্রয়োগ এবং প্রভাবের উপর এখন দাঁড়িয়েছে বাংলার রাজনীতি। এখানেই নিহিত রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল ও দূরদর্শিতা। কথায় বলে বিপরীত পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতাই একমাত্র উত্তরণের পথ। সামনের দিনগুলোতে তাই কে কতটা অভিজ্ঞ, কে কার চেয়ে কতটা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন তার তুল্য বিচারের সময় এখন। কারণ, বাধার প্রাবল্য দিয়ে এখন আর কাজ নয়, এখন হাওয়া ঘোরানোর কৌশল প্রয়োজন।
SIR নিয়ে বহু বাকবিতণ্ডা গেছে। দুই ভিন্ন দম্ভের আওয়াজ উঠেছে। কিন্তু যারা অল্প বিস্তর বুদ্ধি রাখেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সংবিধান প্রসঙ্গে যাঁদের সামন্য ধ্যান ধারণা রয়েছে তাঁরা নিশ্চয়ই জানতেন SIR হচ্ছেই। এবং কী কারণে নির্বাচন কমিশনের এই কার্যক্রম তাও নিশ্চয়ই অজানা ছিল না এঁদের। ২০০৪ সালের পর ভোটার তালিকা সংশোধন হয়নি, এটাই তো ছিল মস্ত গাফিলতি। এই দীর্ঘ বছরে একটা দেশে ভোটার চিত্র অপরিবর্তিত থাকবে এমনটা দাবি করা ঠিক নয়। একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের জন্য যতটা সম্ভব সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রয়োজন এটা বলাইবাহুল্য। এই সংশোধনের কাজে নির্বাচন কমিশন উদ্যোগী হয়েছে একে সমস্ত নাগরিকের উচিত সহযোগিতা করা।
