ওঙ্কার ডেস্ক: নিজের কাজের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রাখতে কখনও কখনও জায়গা থেকে সরে আসতে হয় সেই কদর বজায় রাখার জন্য। এ যেন তারই নিদর্শন। নতুন বছরের শুরুতেই স্তব্ধ হল সংগীতমহল। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টই যেন মুখে কুলুপ অনুরাগীদের। কোটি কোটি অনুরাগীর আবেগে ধাক্কা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অরিজিৎ সিং, প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নতুন কাজ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন। অর্থাৎ, সিনেমার পর্দায় তাঁর সেই চেনা, আবেগমাখা কণ্ঠে নতুন গান শোনার সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ হতে চলেছে।
নতুন বছরের শুভেচ্ছাবার্তায় অরিজিৎ লেখেন, “সবাইকে নতুন বছরের অনেক শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তবে জানাতে চাই, এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনও নতুন কাজ নেব না। এখানেই ইতি টানছি। এই যাত্রাটা সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বার্তাই দ্রুত গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়।
আর এই খবর প্রকাশ হতেই হতবাক গোটা ইন্ডাস্ট্রি। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড থেকে টলিউড, প্রায় সব ভাষার সিনেমায় হিট গানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েছিলেন অরিজিৎ। প্রেম, বিচ্ছেদ কিংবা আশা, সব ক্ষেত্রেই তাঁর কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল নতুন উন্মাদনার নাম। অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য জনপ্রিয়তা এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন। তবে আচমকা এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
‘আশিকি ২’ ছবির কালজয়ী গান ‘তুম হি হো’ অরিজিৎ সিংয়ের জীবনে এনে দিয়েছিল আমূল পরিবর্তন। এই একটিমাত্র গানই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল প্রতিটি দর্শকের মনে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি গায়ককে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অরিজিৎ হয়ে ওঠেন ভারতীয় সংগীতজগতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত কণ্ঠগুলির অন্যতম। হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, তামিল, তেলেগু, মারাঠি ও কন্নড় একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। তিন প্রায় শতাধিক ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে ফিল্মফেয়ার, ঝুলিতে জমেছে অসংখ্য সম্মান ও স্বীকৃতি। মিউজিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বের সর্বাধিক শ্রোতাসম্পন্ন ভারতীয় শিল্পীদের তালিকায় তাঁর নাম থাকে প্রথমেই।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’ দিয়েই সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন অরিজিৎ। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরেই তিনি ধীরে ধীরে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে একজন শীর্ষস্থানীয় গায়ক হয়েছেন। তবে আচমকা গায়কের এহেন সিদ্ধান্তে সঙ্গীতমহলে যেন নেমে এল গভীর স্তব্ধতা।
