ওঙ্কার ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তের একাধিক জায়গায় সাম্প্রতিক কালে মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশের বাহিনী। এখনও সেই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) ডিজি শত্রুজিৎ কাপুর। বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
চলতি মাসের শেষেই অবসর নেওয়ার কথা কাপুরের। তিনি জানান, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র সঙ্গে অরুণাচল সীমান্তের একাধিক জায়গায় চলতে থাকা মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে নতুন ‘শৌর্য’ কমান্ডো দল নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছে। আইটিবিপি প্রধানের বক্তব্য, বাহিনীর প্রতিটি সীমান্ত ব্যাটালিয়নে এই কমান্ডো দলকে রাখা হবে। এর ফলে বাহিনীর নিজস্ব পরিচিতি আরও স্পষ্ট হবে বলেও তিনি মনে করেন। তবে সূত্রের দাবি, চিন প্রসঙ্গে কাপুরের এই মন্তব্য কোনও নির্দিষ্ট সংঘর্ষ বা ঘটনার উল্লেখ করে করা হয়নি। ভারত-চিন সীমান্তে নিয়মিত বাহিনী মোতায়েন এবং প্রস্তুতির প্রসঙ্গেই তিনি কথাগুলি বলেছেন।
১৯৬২ সালে গঠিত আইটিবিপি ভারত-চিন সীমান্তের ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি পাহারা দেয়। এই সীমান্তকে ভারতের অন্যতম কঠিন সীমান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন কাপুর। চিনকে শক্তিশালী প্রতিবেশী এবং ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কাপুরের মতে, চিনের মোকাবিলায় বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে তাল মেলানোও জরুরি। তিনি জানান, বর্তমানে ড্রোন একদিকে বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন সুযোগও তৈরি করছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হতে পারে বলে তাঁর মত। কারণ, চিনের সামরিক বাহিনী পিএলএ আধুনিকীকরণে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। তবে ড্রোন প্রযুক্তি ছোট দেশকেও বড় শক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন আইটিবিপি প্রধান। তাঁর বক্তব্য, ড্রোনের আবির্ভাবে প্রচলিত সেনাবাহিনীর ভূমিকা বদলে গিয়েছে। তাই ড্রোন এবং ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।