
ওঙ্কার ডেস্ক : জাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেল সোদপুরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চটজলদি ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় খড়দহ থানার পুলিশ। দোকানটি আপাতত সিল করে দিয়েছে পুলিশ। উপভোক্তার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দোকানের মালিককে।
সুত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে এক মহিলা তার সন্তানের জন্য সোদপুরের নীলগঞ্জ রোডের উপরের একটি দোকান থেকে ওষুধ কেনেন। তারপরই ওই ওষুধ খেয়ে শিশুটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির মা । এরপর ওই মহিলা দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষ। জাল ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। দোকানের মালিক অবশ্য জাল ওষুধের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। খবর যায় খড়দহ থানায়। থানা থেকে পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ইতিমধ্যেই বাজারে ছড়িয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ। তার মাঝেই এই ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায় সোদপুর এলাকায়। ইতিমধ্যে জাল ওষুধের দৌরাত্ম নিয়ে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। তার জেরে কলকাতার চারটি ওষুধের কারখানায় হানা দিয়েছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড । বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্তত কুড়ি লক্ষ টাকার জাল ওষুধ।
রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রে জানা গেছে, সড়কপথে রাজ্যে ঢুকছে প্রচুর জাল ওষুধ। আসছে মূলত ওড়িশা, বিহার থেকে। দূরপাল্লার বাসে বাংলায় ঢুকছে বাক্স ভর্তি এইসব ওষুধ। বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পৃথ্বী বসু বলেন, “আমি অনুরোধ করছি, ডিসকাউন্টের চক্কর বন্ধ করতে দোকানের সামনে সাইনবোর্ডগুলো যেন সরিয়ে নেয় রিটেলাররা।” FMRAI-এর সদস্য শান্তনু মিত্র বলেন, “কোম্পানি তো জাল ওষুধ বানাচ্ছে না। জাল ওষুধ বানাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। জাল ওষুধ কোনওভাবে ঢুকে পড়ছে। এই ফাঁক ফোকর বন্ধ হওয়া দরকার। ডিসকাউন্ট দিয়ে ওষুধ বিক্রি একটা অতল গহ্বর যার কোনও শেষ নেই।”
তবে কেন এই জাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বাজারে ? জানা যাচ্ছে খাঁটি ওষুধ বিক্রি করে যে লাভ মিলছে তার দ্বিগুণ লাভ মিলছে জাল ওষুধ বিক্রি করে । সেই কারণেই বাজারে ঘুরছে জাল ওষুধ ।