ওঙ্কার ডেস্ক: বাতিল হতে চলেছে রাজ্যের প্রায় ২২ হাজার পুরনো সরকারি গাড়ি। যার মধ্যে প্রায় ৭০০ গাড়ি রয়েছে পুলিশেরই। নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ওই সব ‘বৃদ্ধ’ গাড়িকে চিহ্নিত করে বসিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি দফতরকে গাড়ির সংখ্যা ও নম্বর জানিয়ে সেগুলোকে ব্যবহার থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ছোট চারচাকা থেকে সেডান, সব ধরনের গাড়িই।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাতিলের তালিকায় রয়েছে পুলিশের ৬৯৮টি, পরিবহণ দফতরের ৪৮১টি, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ৭১০টি গাড়ি। পূর্ত, পঞ্চায়েত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি-সহ অন্যান্য দফতরের গাড়ি মিলিয়ে মোট প্রায় ১৯,৭৯৩টি গাড়ি বাতিল হবে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২২ হাজারে।
বিগত কয়েক মাস ধরেই সরকারি গাড়ির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছে পরিবহণ দফতর। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সরকারি দফতরের পুরনো গাড়িগুলিকেও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধারণত সরকারি গাড়িতে দফতরের অফিসার বা আমলারা যাতায়াত করেন। তাই এত বিপুল সংখ্যক গাড়ি বাতিল হলে তাঁদের যাতায়াত ব্যবস্থা কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নবান্ন সূত্রে খবর, সরকারি আধিকারিকদের জন্য নতুন গাড়ি কেনা শুরু হয়েছে। তবে এবার মূলত ভাড়ার গাড়ির দিকেই বেশি ঝুঁকছে প্রশাসন। অনেক ক্ষেত্রেই গাড়ি ভাড়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আবার একাধিক আধিকারিক স্বীকার করছেন, সরকারি গাড়ি নিয়ে প্রায়ই অপব্যবহার ঘটে। যাঁদের গাড়ি পাওয়ার কথা নয়, তাঁরাও গাড়ি ব্যবহার করেন। আবার অনেক সময় গাড়ি সরকারি কাজে না লেগে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে এত গাড়ি বাতিল হলে এই অপব্যবহারও কমবে বলে আশা কর্তাদের।
জানা গিয়েছে, বাতিল গাড়িগুলি আপাতত রাজ্যের বিভিন্ন খোলা জায়গা বা সরকারি ডিপোতে রাখা হয়েছে। ধাপে ধাপে সেগুলি স্ক্র্যাপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট যদি ভবিষ্যতে ১৫ বছরের গাড়ি বাতিলের নির্দেশের মেয়াদ বাড়ায়, সে ক্ষেত্রে এই গাড়িগুলি ফের রাস্তায় নামবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
নবান্নের এক আধিকারিকের কথায়, “আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পুরনো গাড়ি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। আনফিট গাড়ি রাস্তায় নামলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে। আর যদি সেটা সরকারি গাড়ি হয়, তবে সরকারের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সব নিয়ম মেনেই গাড়ি বাতিল করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, পুরনো গাড়ি বাতিলের পাশাপাশি পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এবার বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার দিকেও বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
