ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের অন্তর্দেশীয় জলপথ পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই) তাদের হলদিয়ার মাল্টি-মোডাল টার্মিনালটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালনার জন্য আইআরসি ন্যাচারাল রিসোর্সেস সংস্থার হাতে হস্তান্তর করেছে। বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় দক্ষতা ও বহুমুখী সংযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহায়তায় নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালটির বার্ষিক পণ্য ওঠানো-নামানোর ক্ষমতা প্রায় ৩০ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই টার্মিনালটির উদ্বোধন করেন। জাতীয় সড়ক ৪১ নম্বরের সঙ্গে যুক্ত এই টার্মিনালে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে, যার ফলে স্থল ও জল উভয় পথেই সহজ সংযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে টার্মিনাল পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার পর আইডব্লিউএআই দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় আইআরসি ন্যাচারাল রিসোর্সেস সংস্থা সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করে এবং পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে। সংস্থাটি আগামী ১০ বছর এই টার্মিনাল পরিচালনা করবে, যা প্রয়োজনে আরও পাঁচ বছর বাড়ানো যেতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আইআরসি প্রতি মেট্রিকটন পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ১০৫ টাকা ৩ পয়সা রয়্যালটি হিসেবে আইডব্লিউএআই-কে প্রদান করবে।
এই পদক্ষেপের ফলে হলদিয়া টার্মিনালে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে আরও গতি আসবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ হবে। বিশেষত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি ও প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণে এটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প রুট হিসেবে কার্যকর ভূমিকা নেবে। গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলী নদীপথ ব্যবহার করে জাতীয় জলপথ-১ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহণের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলি এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সুফল পাবে। আইডব্লিউএআই-এর জলমার্গ বিকাশ প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ৬০টি জেটির উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ জলপথ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
