নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি : মেসিকে নিয়ে যুবভারতীতে চরম বিশৃঙ্খলা কলকাতার এক কলঙ্কময় ইতিহাস হয়ে রইল। আর এর খলনায়ক অর্থাৎ মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত এখন অন্যতম আলোচ্য ব্যক্তি। এ হেন এক ব্যক্তির জন্য পুলিশ যে সতর্ক হবে তা বলাইবাহুল্য। ইতিমধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি হুগলির রিষড়ায়। সতর্কতামূলক ব্যপবস্থা হিসেবে তাঁর বাড়ি, রিষড়ার বাঙুর এলাকায় বসেছে পুলিশ পিকেট। রিষড়া থানায়ও এ কারণে বাড়তি পুলিশ রাখা হয়েছে।
শ্রীরামপুর হলিহোম স্কুলে পড়তেন, ছোট থেকেই ক্রিকেট খেলতেন। এক সময় প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করতেন। আগে জামাইবাবুর সঙ্গে ইভেন্ট এর কাজ। পরে সেই কাজে আরও বড় পদক্ষেপ। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বাংলায় নিয়ে এসে চমকে দেওয়া শুরু করলেন। যে সব খেলোয়াড়কে একবার চোখে দেখার জন্য আসমুদ্রু হিমাচল পাড়ি দিতে পারেন তাঁর ভক্তরা। সেই সব খেলোয়াড়কে টার্গেট করে আনতে শুরু করলেন। কলকাতায় আনলেন নিজের বাড়িতেও আনলেন। বাড়িতেই বানিয়ে ফেলেন ফুটবল মাঠ। পেলে, কাফু, মার্টিনেজ, রোনাল্ডিনকে নিয়ে আসেন।
মেসিকে আনতে অনেক কাঠখর পুড়িয়েছেন তিনি। মেসির বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করে রাজি করান। তারপর মেসির সঙ্গে দেখা করে দিনক্ষণ ঠিক করেন। সেই মতো ১৩ ডিসেম্বর সেই মেসি শোয়ের জন্য বহু লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি করেন। হাজার হাজার মেসি ভক্ত ভিড় জমান যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কিন্তু মেসি দর্শন না করতে পেরে চরম বিশৃঙ্খলা ভাঙচুর কলকাতার মাথা হেট হয় বিশ্বের কাছে।
এর জেরে শতদ্রুর বাড়িতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছেয়। রিষড়া থানাতেও বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করে চন্দননগর পুলিশ। শতদ্রুর প্রতিবেশিরা জানান, এর আগে যখন মার্টিনেজ এল সব ঠিকঠাক ছিল। যারা যুবভারতীতে গিয়েছিলেন তারাও জানান, অব্যবস্থার কারণে মেসিকে দেখতেই পাননি কেউ। যারা দর্শকাসনে ছিলেন অনেক দূরে তারা কোনো ভাবেই মেসেকে দেখতে পাননি। নেতা মন্ত্রীদের ভিড় ছিল মেসিকে ঘিরে। মাঠ প্রদক্ষিণ করেনি মেসি। মাত্র কয়েক মিনিট থেকেই মাঠ ছাড়েন মেসি। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দর্শক।
