ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঘিরে নতুন করে জোরদার হয়েছে জল্পনা। গ্রেপ্তারের প্রায় দেড় বছর পর তাঁর অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় মৃত্যুর গুজব। ঠিক সেই সময়েই তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র কাসিম খান এবং বোন নোরিন নিয়াজি অভিযোগ তুলেছেন, পরিবারকে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি তিনি এখনও জীবিত আছেন তার কোনও প্রমাণও তাঁদের হাতে নেই।
কাসিম দাবি করেছেন, ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইমরানকে সম্পূর্ণ একঘরে রেখে দেওয়া হয়েছে, কোনও সাক্ষাৎ, ফোন বা চিঠি কিছুই অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ অন্ধকারে বাবাকে মৃত্যুকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে এবং পরিবারকে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কাসিম সতর্ক করে বলেছেন, ইমরানের সঙ্গে কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
ইমরানের বোন নোরিনও জানান, গত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে তাঁদের সাক্ষাৎ করার আবেদন বারবার নাকচ করেছে জেল প্রশাসন। নিয়ম অনুযায়ী নিকটাত্মীয়দের দেখা করার আইনি অধিকার থাকলেও, জেলপক্ষ বলেছেন নিরাপত্তার কারণে তা সম্ভব নয়। নোরিনের দাবি, এই আচরণই প্রমাণ করে সরকার কিছু লুকোনোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারি মহল এই সমস্ত অভিযোগ এবং মৃত্যুর গুজব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁদের দাবি, ইমরান খান সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিরাপদেই রয়েছেন। তাঁকে বিশেষ সেলে নয়, নিয়ম মেনে বন্দিদের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী রাখা হয়েছে বলে জানায় জেল প্রশাসন। পাশাপাশি সরকারি মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, ইমরানকে নাকি ‘ফাইভ-স্টার ট্রিটমেন্ট’ দেওয়া হচ্ছে। এই দাবি আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
পরিবার বারবার দাবি করলেও, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকা এবং জেল কর্তৃপক্ষের গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের মতে, পাকিস্তানে ১৯৭০-এর দশকের পর কোনও রাজনৈতিক বন্দিকে এমন মাত্রায় বিচ্ছিন্ন করে রাখার ঘটনা নজিরবিহীন। তাঁদের অভিযোগ, স্বচ্ছতার অভাব ইমরানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।
এমন অবস্থায় ইমরান খানের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার ও প্রশাসনের ভিন্নমত। ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
