ওঙ্কার ডেস্ক : এই বছরের শুরু থেকেই ভারত চিন উভয় পক্ষের বিমান চলাচল কর্মকর্তাদের মধ্যে কারিগরি স্তরের আলোচনা চলছিল। অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার পর ভারত ও চিন এই মাসের শেষের দিকে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক বরফ গলার পর বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় এই চুক্তির ঘোষণা করেছে।
এক বিবৃতি্তে ভারতের বিদেশ মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, এই বছরের শুরু থেকেই উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিমান চলাচলাচলের ক্ষেত্রে একটি সংশোধিত বিমান পরিষেবা চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে ভারত ও চিনের অনুমোদিত বিমান সংস্থাগুলিকে শর্ত সাপেক্ষে বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পর আগামী ২৬ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কলকাতা ও গুয়াংজুর মধ্যে দৈনিক বিমান চালানোর কথা ঘোষণা করে দিয়েছে ইন্ডিগো বিমান সংস্থা।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, তারা এই ফ্লাইটগুলি পরিচালনা করার জন্য তার এয়ারবাস A320 নিও বিমান ব্যবহার করবে যা আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং কৌশলগত ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দু দেশের মধ্যে পর্যটনকে উৎসাহিত করবে।
এই পদক্ষেপটি COVID-19 মহামারী এবং পরবর্তীকালে ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনার পর দু দেশের যাত্রীদের পুনরায় উৎসাহিত করবে। দুই এশীয় প্রতিবেশীর মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চার বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত ছিল। যার ফলে ব্যবসা, পর্যটন এবং শিক্ষা বিনিময় ব্যাহত হচ্ছিল। এই ঘোষণাটি দু দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভারত আমেরিকার বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বিশেষ ইংগিতবাহী। বিশ্লেষকরা এই উন্নয়নকে একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন যা বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
