ওঙ্কার ডেস্ক : ভারত ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশকে তাদের সভ্যতার উপর দাঁড়িয়ে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে হবে, মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গঙ্গা-মহাকাম ভিশন’-এর ওপর ভিত্তি করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কের এক নতুন সূচনার আহ্বান জানান। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি একে অপরের সঙ্গে উন্নয়নের অভিজ্ঞতা ও পথপদ্ধতি ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন। বলেন, এর জন্য নিরাপত্তা ও কৌশলগত আস্থা বৃদ্ধি করতে হবে, সামুদ্রিক সমৃদ্ধি এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করতে হবে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ভাষণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সভ্যতাগত বন্ধন ও অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং উভয় দেশের ‘সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-কে আরও গভীর করার কথা পুনরায় বলা হয়।
ভারতের উন্নয়ন যাত্রার কথা তুলে ধরে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ ও ‘গোল্ডেন ইন্দোনেশিয়া ২০৪৫’-এর ভিশনের মধ্যে পারস্পরিক সামঞ্জস্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানান। এছাড়া, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করতে এবং একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিয়ম-ভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতিও তিনি মনে করিয়ে দেন।
ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মাননা—’বিনতাং আদিপূর্ণা অফ দ্য রিপাবলিক অফ ইন্দোনেশিয়া’ পদকে ভূষিত করার জন্য নরেন্দ্র মোদী প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো এবং ইন্দোনেশিয়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সম্মাননা দুই দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অভিন্ন ঐতিহ্য এবং দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ যা সম্প্রসারণবাদের পথে নয়, বরং উন্নয়নের পথে চলে। তাই ভারতে আমরা বলি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’—অর্থাৎ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সবার উন্নয়ন। আজ আমি সেই মন্ত্র ও ভাবনা নিয়েই আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আমাদের রাজধানীগুলোর মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব থাকলেও, সমুদ্রের হিসেবে আমরা মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সমুদ্র প্রায়শই বাধা বা দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার জন্য তা কখনোই বিচ্ছিন্নতার প্রতীক ছিল না; বরং সমুদ্র আমাদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে এবং আমাদের যৌথ ভবিষ্যতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন যে, ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়াটা ছিল অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়া X-এ লিখেছেন, “ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়াটা ছিল সম্মানের বিষয়। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং যৌথ সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাব।”