ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নিজের দলেরই এক শীর্ষ নেত্রী। প্রাক্তন রাষ্ট্রপুঞ্জে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান নেত্রী নিকি হ্যালি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড় দিয়ে ভারতের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশের উপর চাপ তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কূটনীতিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে নিকি হ্যালি স্পষ্ট জানান, “ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু চিন, রাশিয়া ও ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা হয়েও তারা ট্যারিফ ছাড় পাচ্ছে। অথচ ভারতকে দোষারোপ করা হচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। চিন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী, আর ভারত দীর্ঘদিনের বন্ধু। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যখন চিন ক্রমশ আগ্রাসী, তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা উচিত, ধ্বংস নয়”।
নিকির এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে দ্বিধা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারণ নিকি হ্যালি শুধু প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতই নন, রিপাবলিকান দলে এখনও প্রভাবশালী মুখ। তাছাড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলেই নয়, বরাবরই তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর পর ট্রাম্প সম্প্রতি আবার হুমকি দিয়েছেন, শুল্ক আরও বাড়ানো হবে। তাঁর অভিযোগ, ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে খোলা বাজারে তা বেশি দামে বিক্রি করছে এবং মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করছে।
এ নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি একান্তভাবে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রয়োজন। এতে কোনও নৈতিক অন্যায় নেই। বরং আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেরাও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরে রাশিয়ার সঙ্গে নানা রকম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে কেবলমাত্র ভারতকে নিশানা করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান, তাঁর দলের ভেতরের বিরোধিতা এবং ভারতের পাল্টা কূটনৈতিক বার্তা সব মিলিয়ে আমেরিকা-ভারত সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনের মুখে। তবে এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই নিকি হ্যালির মন্তব্য ভারত-মার্কিন সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সেতুবন্ধনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন কূটনীতিক মহল।
