স্পোর্টস ডেস্ক : ৩ বছর আগেই বাইচুং বলেছিলেন, কল্যাণ চৌবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হলে ধ্বংশ হবে ভারতীয় ফুটবল। তারপর কল্যাণের কাছে ফেডারেশন নির্বাচনে ৩৩ -১ ব্যবধানে হেরেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া। আর ভারতীয় ফুটবল যখন তলানিতে তখন তিনি চুপ থাকতে পারলেন না। এদিন কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক সম্মেলন করে বাইচুং কার্যত বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন। বললেন, ভারতীয় ফুটবল বেশ কয়েক বছর তলানিতে নেমেছে। ব়্যাঙ্কিং কোথা থেকে কোথায় নেমেছে। ফিফা ক্রমতালিকায় কল্যাণ আসার আগে ভারত ১০০-র মধ্যে ছিল। আর ভারত এখন ১৩৩ নম্বরে। এএফসি এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জনের জন্য স্ট্রাগল করছে। আমরা যখন খেলতাম ১৬টা দল খেলতো এএফসি কাপে আর এখন ২৪টা দল তবুও এই শোচনীয় অবস্থা। তার কারণ ফেডারেশনের অকর্মণ্যতা।
কল্যাণ চৌবে বলেছিলেন, ২০২৬ সালে ভারত এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আসবে। এখন তিনি বলছেন আরও ১০ বছর সময় লাগবে। এবার বিপদ ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। যতদিন নতুন ফুটবলার তৈরি করা যাবে না, ততদিন উন্নতি হবে না। তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করতে হবে।
এরপর বাইচুং বলেন, ‘মাত্র ২ লক্ষ টাকায় গ্রাসরুট লেভেলে ভাল ফুটবলার তৈরি সম্ভব নয়। কল্যাণ চৌবে জুমলা বাজি করছেন। ফুটবলারদের সপ্তাহে অন্তত একটা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা উচিত। কিন্তু সেটা হয় না। মাত্র ১০ দিনের প্রোগ্রাম করা হয়। আর সেই জন্য ফুটবল অ্যাকাডেমি দরকার। ভারতে এমনিতেই ফুটবল কম খেলা হয়। আর ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের জন্য সেই অ্যাকাডেমি কাজ করতে পারছে না। বেশির ভাগ জুনিয়র ফুটবলার আসছে প্রাইভেট অ্যাকাডেমি থেকে। বিশ্বকাপ আমাদের কাছে স্বপ্ন। ফেডারেশনের ম্যানেজমেন্ট গত তিন বছর ধরে একেবারেই জঘন্য। আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
বাইচুংয়ের অভিযোগ, আমি ১৯৯৯ সাল থেকে ভারতের ক্যাপ্টেন ছিলাম। ২০১১ সালে অবসর নিই। এত বছর খেলেছি, বিশ্বাস করুন, কল্যাণ চৌবেকে কোনওদিন ভারতীয় দলে খেলতে অন্তত আমি দেখিনি। অথচ উনি বলে বেড়াচ্ছেন তিনি নাকি ভারতীয় দলে খেলেছেন। আমরা একসময়ের হলেও তাঁকে ভারতীয় টিমে কোনও দিন দেখিনি। তাঁর জন্য ফেডারেশনের প্রচুর দুর্নাম হয়েছে। তাঁর আমলে সর্বত্র দুর্নীতির অভিযোগ। কল্যাণ খেলার সময়েও রাজনীতি করত, খেলার পরও করছে। কোনওদিন ফুটবল অ্যাকাডেমির কথা বলেননি। ইগর স্টিমাচ এ আর প্রেসিডেন্টের টানাপোড়েনেই ভারতীয় ফুটবলের এই পতন। সেটা ইগর প্রকাশ্যেই বলেছিলেন। কল্যাণের জন্য এটা লজ্জাজনক। ক্রিকেটের মত ভারতীয় ফুটবলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভিড়। কল্যাণ বিজেপিতে আছে বলেই কী ফেডারেশন সভাপতি ! বাইচুং বললেন, ‘নিজের ভোটের প্রচারে গিয়ে রাজনীতি করেছে। সে বলত ওর হয়ে প্রচার করলে ফেডারেশনে পদ দেবে। নিজেও ডুবেছে নিজের পার্টিকেও ডুবিয়েছে। আমি সভাপতি হতে চাই না। বাইরে থেকে ভারতীয় ফুটবলের কাজ করতে চাই। সেটা যেদিন অবসর নিয়েছি তবে থেকে করছি। এখন তো মনে হচ্ছে প্রফুল প্যাটেল আর প্ৰিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর আমলে ফেডারেশন ভালো চলত। আইএসএল বন্ধ হবে এমন কথা শোনা যাচ্ছে। বাইচুং বললেন, “ভারতীয় ফুটবল এমনিতেই শেষ হয়েছে। আইএসএল বন্ধ হলে ভারতকে ২০০ রাঙ্কিংয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
