ওঙ্কার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী দুই ভারতীয় জাহাজকে যাতায়াতে ছাড়পত্র দিল ইরান। এর ফলে ভারতে জ্বালানি সঙ্কট অনেকটা মোকাবিলা করা যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝে ভারতের জন্য এই বিশেষ ছাড় নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যার রেশ পড়েছে ভারতেও। এই আবহে নয়াদিল্লির জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল তেহরান। জ্বালানি তেল নিয়ে দুই জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। যা মোদী সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেন। দুই মন্ত্রীর সেই কথোপকথনের পর এল এই খবর। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছিল। বিশ্বের তেল পরিবহণের বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। এই আবহে ১১ মার্চ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের দিকে প্রথম তেলবাহী জাহাজটি নিরাপদে এসেছে। লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’ নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে মুম্বইয়ে আসে। এই জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে ছিলেন একজন ভারতীয় নাবিক। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে গত ১ মার্চ জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সেটি ভারতে আসে।
উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার কাছে ইরানের রণতরীতে মার্কিন বাহিনী হামলা করে সম্প্রতি। যে হামলার পর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নয়াদিল্লি। তার মাঝেই হরমুজ প্রণালীতে আক্রান্ত হয় ভারতীয় পণ্যবাহী থাই জাহাজ। তাতে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৎপরতা বাড়ায় ভারত সরকার। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারই সুফল মিলল।
