ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতির রেশ এবার ছড়িয়ে পড়ল সীমান্ত পেরিয়ে উত্তরবঙ্গেও। রবিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়িতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের কুশপুতুল দাহের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় মানুষদের নিরাপত্তায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এই প্রতীকী প্রতিবাদ বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ইনক্লাব মঞ্চের সুপ্রিমো শারিফ ওসামান হাদির মৃত্যুর পর চরম অশান্তি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই ময়মনসিংহে দিপুচন্দ্র দাস নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচীকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। আদতেও সেই অভোযোগের কোনো সত্যতা যাচাই না করেই দিপুচন্দ্রকে প্রথমে গণপিটুনি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়। এর ঘটনা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পরে মানুষ। তার আঁচ এসে পরে এবার বাংলার শিলিগুড়িতেও।
শিলিগুড়ি শহরের ব্যস্ত এলাকা সংলগ্ন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের সদস্য ও বাংলাদেশ থেকে আসা রাজনৈতিক সহানুভূতিশীলদের উপস্থিতিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। হাতে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি ধর্ম হিংসায় দিপু চন্দ্র দাসের মৃত্যু সেই প্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুখ হিসেবে মুহাম্মদ ইউনুসের ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
বিক্ষোভ চলাকালীন মুহাম্মদ ইউনুসের একটি কুশপুতুল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কুশপুতুল দাহের সময় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফেরানোর দাবি উঠে আসে বারবার। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, দিপচন্দ্র দাসের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ইউনুসের শোকবার্তা ও পুর্ণ তদন্তের আশ্বাস বাস্তবে কোনও পরিবর্তন আনেনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যদিও বিক্ষোভ মূলত প্রতীকী ও সীমিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়, তবুও সীমান্তবর্তী শহরে এমন প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রশাসনের নজর কেড়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। সেই আবহেরই প্রতিফলন দেখা গেল শিলিগুড়িতে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের এপারে দাঁড়িয়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমন প্রকাশ্য প্রতিবাদ এই প্রথম নয়, তবে ইউনুসের কুশপুতুল দাহ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
