ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের শিল্পগোষ্ঠী ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের দাবিতে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল অঙ্কের পাওনা না মেটায় সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুত অর্থ মেটানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই দুই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম সময়মতো না পাওয়ায় উৎপাদন ও জ্বালানি সংগ্রহে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কয়লা আমদানি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে আর্থিক চাপ বাড়ছে বলেই সংস্থার দাবি। সংস্থা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধে দেরি হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
ঝাড়খণ্ডের গড্ডা তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানির জন্য কয়েক বছর আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে। বাংলাদেশের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিল্পাঞ্চল, শহরাঞ্চল এবং গ্রামীণ বিদ্যুতায়নে এই বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট। ফলে বকেয়া অর্থ নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের কারণে বিল মেটাতে দেরি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে কয়লা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ চুক্তিতে নিয়মিত অর্থপ্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিল বকেয়া পড়লে শুধু সরবরাহ নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারত-বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ রফতানি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই বকেয়া বিতর্ককে দ্রুত সমাধান করা জরুরি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ঢাকার প্রশাসনিক স্তরে আলোচনাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে বন্ধ না হয়, সে দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ সরবরাহ কমে গেলে শিল্প উৎপাদন, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে পারে।
