ওঙ্কার ডেস্ক: সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় আইএস জঙ্গিদের ঘাঁটি, অস্ত্রভাণ্ডার ও লুকিয়ে থাকার আস্তানাকে নিশানা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। বিমান ও ড্রোনের মাধ্যমে একযোগে আঘাত হানা হয় বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।
মার্কিন সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার কিছু অংশে আইএস নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে জঙ্গিদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের লজিস্টিক ও সামরিক পরিকাঠামো বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইএস-এর তরফে ফের হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছিল। বিশেষ করে মার্কিন সেনা ও তাদের মিত্র বাহিনীর উপর আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। পেন্টাগনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই হামলা কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়েরই অংশ।
এই অভিযানের পর সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি মার্কিন সেনার। হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা না হলেও আইএস-এর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সিরিয়ায় মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আইএস-এর মতো জঙ্গি সংগঠনকে দমন করতে এই ধরনের অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।
