ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থির হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির গুরুত্বপূর্ণ শহর দুবাইয়ে আবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দুবাইয়ের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা হঠাৎ করেই বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করা হয়। সেই আক্রমণ প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ একটি ভবনের গায়ে এসে পড়ে এবং সেখানেই বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের মুহূর্তে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং ভবনের আশপাশে কাঁচ ভাঙার শব্দ শোনা যায়। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরপর দু’বার এমন বিস্ফোরণের ঘটনার জেরে দুবাইয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, একটি ড্রোন দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের পর দূতাবাস চত্বরে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আরও একটি সূত্র জানিয়েছে, দূতাবাসের হেলিপ্যাড এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে।
ঘটনার পরপরই বাগদাদের গ্রিন জোন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এবং মার্কিন সেনা যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও হামলার ঘটনায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার পেছনে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা থাকতে পারে। কারণ, এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানঘনিষ্ঠ এক মিলিশিয়া সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে খবর। সেই অভিযানে তাদের কয়েকজন সদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর, সামরিক ঘাঁটি এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে
