ওঙ্কার ডেস্ক: ঢাকায় তারেক রহমান–এর শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’–ভুক্ত দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), তবুও দলীয় শীর্ষস্তরের একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
সার্কভুক্ত দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে ২০১৬ সালের পর থেকে সার্ক সম্মেলন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় যদি এই আঞ্চলিক জোটের দেশগুলির প্রতিনিধিরা এক মঞ্চে উপস্থিত হন, তা হলে তা কেবল রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। হাসিনার দেশ ছেড়ে যাওয়া এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র মৃত্যুর পর দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তাঁর শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কূটনৈতিক বার্তা বহন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর–এর উপস্থিতি এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের একত্রে দেখা যাওয়াকে অনেকেই সম্ভাব্য বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।
এবার তারেক রহমানের সম্ভাব্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সেই আলোচনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। যদি সত্যিই সার্ক দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঢাকায় উপস্থিত থাকেন, তা হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি আঞ্চলিক সহযোগিতার মঞ্চকে পুনরুজ্জীবিত করার বার্তা দিতে চায়, তবে এমন আমন্ত্রণ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে সবটাই এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবুও ঢাকার কূটনৈতিক অন্দরমহলে আলোচনা জোরদার শপথের মঞ্চ কি শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুষ্ঠানই হবে, না কি তা দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্কের নতুন সমীকরণের সূচনাবিন্দু হয়ে উঠবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা অঞ্চল।
