ওঙ্কার ডেস্ক: দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে একাধিক বৈঠক ও আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর কথায়, চলতি সপ্তাহের শেষ বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক প্রযোজ্য থাকায় রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিন ধরেই বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, যা দেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে, সেই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বাড়তি শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি পণ্য কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে অর্ডার কমে যাওয়া, মুনাফা হ্রাস এবং কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে শুল্ক কমালেও ব্যবসায়ী মহল ও সরকারের পক্ষ থেকে আরও ছাড়ের দাবি জানানো হচ্ছিল। সাম্প্রতিক আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যুক্তি দিয়েছে, শুল্ক কমানো হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাশ্রয়ী দামে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি সত্যিই শুল্ক হ্রাস করা হয়, তবে তা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়বে, নতুন অর্ডার আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন সকলের নজর যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে এবং রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের।
