ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্ধারিত চীন সফর পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এই সফরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের অংশ।
মার্কিন প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাম্পের শিগগিরই চীন সফরে যাওয়ার কথা ছিল এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে সেই সফরের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সফর নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষত ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে নতুন করে প্রভাবিত করছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের মতে, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির একত্রে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংকট মোকাবিলায় চীনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক হওয়ায় ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বেইজিংয়ের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই সংকট মোকাবিলায় চীন কী পদক্ষেপ নেবে, তা আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার বলেই তিনি মনে করছেন। সেই কারণেই চীন সফরের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার কথা ভাবা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংকটের সময় বড় শক্তিগুলির মধ্যে সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, যদি চীন এই পরিস্থিতিতে গঠনমূলক ভূমিকা না নেয়, তাহলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকেই জটিল করবে না, বরং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে ট্রাম্প একদিকে যেমন চীনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ বজায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও সফরের সময়সূচি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরটি কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং চলমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রেও তা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। ফলে সফরটি আদৌ নির্ধারিত সময়ে হবে নাকি পরে করা হবে তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে আগামী দিনগুলিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
