ওঙ্কার ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যে সংঘাত এখনও চলমান। তবে ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধের ফলে বড় মূল্য চোকাতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। যুদ্ধের কারণে তেলের দামবৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন মার্কিনিরা।
ইরান যুদ্ধের ফলে চলতি সপ্তাহে জ্বালানির দাম ২১ শতাংশ বেড়ে গড়ে প্রতি গ্যালনের দাম ৩.৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে হাওয়াইতে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৪.৪ ডলার এবং ওকলাহোমায় সর্বনিম্ন ২.২ ডলার রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ৫ মার্চ জ্বালানির দামে গত তিন দিনের মধ্যে যে বৃদ্ধি দেখা গেছে, তা ২০০৫ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই বছর হ্যারিকেন ক্যাটরিনা নিউ অরলিন্সকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার পর ১,৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। চলতি বছরে তেলের এমন মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিক ভাবে খেসারত দিতে হচ্ছে মার্কিন মুলুকের নাগরিকদের।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জ্বালানির গড় মূল্য ছিল প্রতি গ্যালন ২.৮৯ মার্কিন ডলার। এই আবহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য সমালোচকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘যখন তেলের দাম বাড়ে, তখন আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করি।’ সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের দুর্দশা নিয়ে চিন্তিত নন। বরং কীভাবে নিজের এবং তাঁর ধনী বন্ধুদের পকেট ভারী হবে তা নিয়ে ভাবতে বেশি ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ… তাই যখন তেলের দাম বাড়ে, তখন আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করি। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া থেকে বিরত রাখা ছিল এর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আবহে, বিশেষ করে তেহরান যেখানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে এবং উভয় পক্ষের দ্বারা তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে— তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বড় ধাক্কা তৈরি করেছে। এর ফলে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-তেলের দাম এক সপ্তাহের মধ্যেই দুবার ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। যা ২০২২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। ইরান খুব ভাল করেই জানে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করলে এবং যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে জ্বালানিকে ব্যবহার করলে গোটা বিশ্বেই এর আঁচ পড়বে। আর এই কৌশল থেকে তেহরান যে সরে আসবে তার কোনও লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানের বাহিনী ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “কাপুরুষোচিত” হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যাবে। আর এর জন্য গোটা বিশ্বের প্রস্তুত থাকা উচিত। গত বৃহস্পতিবার তেহরান আবারও সেই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
