ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে রীতিমতো ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ারবাজার। ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা আরও জটিল আকার নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় সূচকে। সপ্তাহের মাঝামাঝি লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক পতনের ছবি ধরা পড়ে বাজারে।
বুধবার সকালে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১,৬০০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়। একই সঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ প্রায় ৪৫০ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ে যায়। বাজার খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ শেয়ার লাল চিহ্নে চলে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অশান্তির জেরে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ভারত যেহেতু তেল আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে এই আশঙ্কাই মূলত শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে।
ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ধাতু এবং গাড়ি নির্মাণ প্রায় সব বড় খাতেই পতন দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের শেয়ারগুলিতে বড়সড় ধস নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দেয়। ফলে অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন, যেমন সোনা বা মার্কিন ডলার।
রুপির বিনিময় হারেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ডলারের বিপরীতে রুপির দুর্বলতা আমদানি ব্যয় আরও বাড়াতে পারে, যা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে। তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে উঁচু থাকে, তবে তা মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক ঘাটতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত অর্থনীতিবিদদের।
বিশ্ববাজারের সঙ্গেও মিল পাওয়া গেছে এই পতনের। এশিয়ার একাধিক শেয়ারবাজারেও বড়সড় ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন, যার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও স্পষ্ট।
