ওঙ্কার ডেস্ক: শনিবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গনে এক ঐতিহাসিক দিন। ঢাকায় নিহত যুবনেতা শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস যে বক্তব্য রাখলেন, তা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাজধানীতে হাদির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বিপুল সংখ্যক সমর্থক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হন। শোকের আবহে ক্রমশ ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জানাজার মঞ্চ থেকে মুহাম্মদ ইউনুস হাদিকে স্মরণ করে বলেন, তাঁর আদর্শ, তাঁর স্বপ্ন ও তাঁর উচ্চারণ করা কথাগুলি শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার দিশা। ইউনুস জানান, হাদি যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যে ‘মন্ত্র’ তিনি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তা ভুলে যাওয়া হবে না। সেই স্বপ্ন পূরণ করাই এখন দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে আত্মমর্যাদা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কোনও শক্তির কাছে মাথা না নোয়ানোর বার্তা।
ইউনুস বলেন, হাদি রাজনীতিকে ক্ষমতার লড়াই হিসেবে নয়, মানুষের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া, তাদের কথা শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল সুর। এই মূল্যবোধকে সামনে রেখেই বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই দেশ কারও কাছে মাথা নত করবে না, নিজের পথ নিজেই ঠিক করবে।
হাদির মৃত্যু ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ছায়াও জানাজার পরিবেশে স্পষ্ট ছিল। বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহের মধ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কারণ এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নানা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিশেষ করে হাদির পরিচয় একজন তীব্র ভারত-বিরোধী নেতা হিসেবে থাকায় তাঁর মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর পড়েছে। ইউনুসের বক্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর এই শপথ শুধু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি শক্ত অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
