ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। যার রেশ এখনও কাটেনি। এই আবহে ফের এক হিন্দু ব্যক্তিকে গুলি করে খুন করা হল। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। নিহত হিন্দু ব্যক্তি বজেন্দ্র বিশ্বাস বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থা আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। সোমবার তিনি একটি সোয়েটার কারখানায় কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তাঁরই সহকর্মী চল্লিশ বছর বয়সী বজেন্দ্রকে গুলি করে।
রিপোর্ট অনুসারে, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা নাগাদ উপজেলার মেহরাবাড়ি এলাকায় সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড কারখানায় গুলি চলার ঘটনা ঘটে। যে ব্যক্তি বজেন্দ্রকে গুলি করেছে সেও আনসার বাহিনীর সদস্য। অভিযুক্তের নাম নোমান মিয়া। ঘটনার পর নোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনার সময় সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড কারখানায় মোট ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, নোমান ও বজেন্দ্র একসঙ্গে বসে ছিলেন। সেই সময় নোমান আচমকা তার বন্দুক দিয়ে গুলি চালায় বজেন্দ্রর বাম উরুতে। এর ফলে গুরুতর আহত হন তিনি। তড়িঘড়ি ওই হিন্দু ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য এপিসি আজহার আলী বলেন, ‘ঘটনার সময় আনসার সদস্য নোমান মিয়া এবং বজেন্দ্র আমার ঘরে একসঙ্গে বসে ছিলেন। হঠাৎ, তিনি বজেন্দ্রের উরুতে একটি বন্দুক (গুলি) তাক করে বলেন, ‘আমি গুলি করি?’ তারপর গুলি চালান। ঘটনার পর নোমান পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন ঘটনার আগে দুজনের মধ্যে কোনও তর্ক-বিতর্ক দেখেননি তিনি।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং নোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
