ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ কুস্তিগীরকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক স্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কুম শহরে জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয় ওই যুবককে, যা ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
মৃত ওই কুস্তিগীরের নাম সালেহ মোহাম্মাদি। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় দুই পুলিশকর্মীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
একই মামলায় আরও দুই যুবককেও দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাঁদের সঙ্গেই প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভ পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি থামেনি। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই মৃত্যুদণ্ড আসলে আন্দোলন দমন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সঞ্চার করার একটি কৌশল।
তবে এই ঘটনার পর থেকেই মানবাধিকার সংগঠনগুলির তরফে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের ন্যায়সঙ্গত বিচার দেওয়া হয়নি। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়, আইনজীবীর পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়া এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মতো একাধিক অনিয়মের কথা সামনে এসেছে। এর ফলে গোটা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ড একটি বড় বিতর্কের বিষয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এই ঘটনার পর সেই উদ্বেগ আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
