ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে এসে স্থলসেনা মোতায়েন বা “বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড” প্রসঙ্গে মন্তব্যে পরিবর্তন আনেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, রিয়াধে মার্কিন দূতাবাস চত্বরে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়। সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত সক্রিয় হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দূতাবাস ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড়সড় প্রাণহানির খবর মেলেনি। হামলার পিছনে ইরানকে দায়ি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।
এই হামলার পর হোয়াইট হাউসের অবস্থানে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থলসেনা নামানোর পক্ষপাতী নয়। তিনি মূলত আকাশপথে হামলা, নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং কৌশলগত সামরিক চাপে রাখার নীতির কথাই বলেছিলেন। কিন্তু দূতাবাসে হামলার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “সব বিকল্পই খোলা রাখছে।” প্রয়োজনে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য কার্যত ট্রাম্পের অবস্থানে একটি বড়সড় ‘ইউ-টার্ন’। কারণ এর আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন কমানোর কথা বলে আসছিলেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই চরমে পৌঁছেছে। ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা শুধু কূটনৈতিক সংকটই নয়, বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিগুলির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন স্বার্থে আঘাত এলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
