ওঙ্কার ডেস্ক: আদালতের বিচারপতি, যার উপর দেশের নীতির অনেকাংশ দায়বার বর্তায়, সেই বিচারপতির আইনি ডিগ্রিই নাকি ভুয়ো। এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানে। হাইকোর্টের বিচারপতি তারেক মাহামুদ জাহাঙ্গিরি বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তার কোন আইনি ডিগ্রি নেই। এমনকি নিজের নাম জাল করে ভুয়ো এনরোলমেন্ট নম্বর দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। এই সব তথ্য সামনে আসতেই পাকিস্তানের বিচার ব্যাবস্থা কড়া চর্চার মধ্যে রয়েছে।
জানা গিয়েছে, ইসলামাবাদ হাই কোর্টে নিযুক্ত বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরির আইন শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের নজরে এলে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে, তিনি যে আইন ডিগ্রির ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেটি বৈধ নয়। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন না এবং প্রদত্ত ডিগ্রির তথ্যের সঙ্গে সরকারি রেকর্ডের মিল পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি এক বিস্তৃত রায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, তার নিয়োগ শুরু থেকেই আইনগতভাবে অবৈধ। ফলে বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনও বাতিলযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, বিচারব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং তা জনবিশ্বাসে আঘাত হানে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে একাধিকবার বৈধ নথি পেশ করার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন। বরং বিভিন্ন সময়ে প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেও আদালত মন্তব্য করেছে। এই প্রেক্ষিতে তার নিয়োগ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পাকিস্তানের আইন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল বলেই এমন ঘটনা সম্ভব হয়েছে। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও কঠোরতা বৃদ্ধি করা না হলে বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
