ওঙ্কার ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফর। বুধবার ইজরায়েলের সংসদে বক্তৃতা রাখেন মোদী। বক্তব্য শেষে তাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। নেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’ প্রদান করা হয়।
বুধবার ইজরায়েলের সংসদে বক্তৃতা রাখার সময় ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি ২৬/১১-র স্মৃতিচারণ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ বার্তা দেন। বক্তৃতায় মোদী শুধু দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথাই বললেন না, বরং মানবিক সন্ত্রাসবাদ-বিদ্বেষমুক্ত বিশ্বের আহ্বান এবং সাংস্কৃতিক মিলের কথাও তুলে ধরলেন। ‘দু’দেশের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, মানসিক ও ঐতিহাসিকভাবেও গভীর তা মোদীর কথায় স্পষ্ট।
ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি নেসেটের মতো মর্যাদাপূর্ণ সভায় বক্তব্য রাখলেন। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের জীবনের বিশেষ সম্মান হিসেবে তুলে ধরেন।
হামাসের আক্রমণে ৭ অক্টোবরের নিহতদের প্রতি ভারতের সমবেদনা জানিয়ে মোদী বলেন, “আমরা আপনার দুঃখ বুঝি, আমরা পাশে আছি। ভারতও বহু বছর ধরে সন্ত্রাসের যন্ত্রণা বহন করছে! ২৬/১১ হামলাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, সেক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান বরাবরই জিরো টলারেন্স।
হামাসের আক্রমণের কড়া নিন্দা করলেও গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মোদী। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “শান্তির পথ কখনও সহজ নয়। তবুও, এই অঞ্চলে স্থায়ী সমাধান আনতে ভারত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চায়। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।”
ভারত ইজরায়েলের সম্পর্ক যে মজবুত, সে বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মোদী। তিনি বলেন, ইহুদি সম্প্রদায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ভারতে নিরাপদে থেকেছে। বৈষম্য বা নির্যাতন ছাড়াই। এটা ভারতের জন্য গর্বের। তিনি দুই সভ্যতার মিলও তুলে ধরেন। ইজরায়েলের ‘টিক্কুন ওলাম’ এবং ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ একই মানবিক মূল্যবোধ বহন করে বলে জানান মোদী।
