ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ফের তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতভর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের দাবি, সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি লক্ষ্য করেই আফগান ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, পাকিস্তান বিনা উসকানিতে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।
পাকিস্তানের সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিরাই সম্প্রতি পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত। সেই প্রেক্ষিতেই গভীর রাতে বিমান ও ড্রোনের সাহায্যে একাধিক স্থানে আঘাত হানা হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এই অভিযানে বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে আফগানিস্তান এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের হামলায় নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকটি আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা দ্রুত পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। যদিও দুই দেশের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তের ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন অংশে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, আকাশে যুদ্ধবিমানের আনাগোনাও লক্ষ্য করা গেছে।
পাকিস্তানের একাধিক উচ্চপদস্থ নেতা পরিস্থিতিকে ‘উন্মুক্ত সংঘাত’-এর পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে আফগানিস্তানও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত জুড়ে জঙ্গি কার্যকলাপ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের জেরে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে গিয়েছে। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ সেই উত্তেজনাকেই আরও উসকে দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। আন্তর্জাতিক মহলের তরফে সংযমের আহ্বান জানানো হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। আগামী দিনে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা অঞ্চলের।
