ওঙ্কার ডেস্ক: মেক্সিকোর অন্যতম কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ মেক্সিকান সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। পশ্চিম মেক্সিকোর তাপাল্পা শহরের কাছে এই অভিযান চালায় মেক্সিকোর সেনাবাহিনী। মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরার পরই এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্টেল সমর্থকদের তাণ্ডবে একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ, গাড়িতে আগুন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর মিলেছে।
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেসের জীবনকাহিনি শুরু হয়েছিল দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি মেক্সিকোর মিচোয়াকান প্রদেশের এক গ্রামীণ অঞ্চলে তাঁর জন্ম। কৃষিনির্ভর বড় পরিবারে বেড়ে ওঠা ওসেগুয়েরা শৈশব থেকেই অর্থাভাবের বাস্তবতা দেখেছেন কাছ থেকে। পরিবারের জীবিকা ছিল মূলত চাষাবাদ। অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে ক্ষেতের কাজে হাত লাগাতে হয়েছিল তাঁকে।
কৈশোর পেরোতেই জীবিকার সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন তিনি। সে সময় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধভাবে কাজ করার পাশাপাশি মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ গড়ে ওঠে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একসময় গ্রেপ্তারও হন তিনি। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে সাজা ভোগের পর তাঁকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়। এই সময় থেকেই তাঁর অপরাধ জগতের সঙ্গে গভীর সম্পৃক্ততা তৈরি হয় বলে মনে করা হয়।
মেক্সিকোতে ফিরে প্রথমদিকে স্থানীয় পুলিশের চাকরিতেও যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন। মাদক পাচার, অস্ত্র সরবরাহ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জগতে দ্রুত নিজের অবস্থান শক্ত করেন। পরবর্তীতে মিলেনিও কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সংগঠনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব গ্রেপ্তার বা নিহত হওয়ার পর ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে ওসেগুয়েরা কৌশলে নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করেন।
এই সময়েই গড়ে ওঠে ‘হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ বা সিজেএনজি। এল মেনচোর নেতৃত্বে সংগঠনটি অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী ও ভয়ংকর মাদক চক্রে পরিণত হয়। তাঁর নেতৃত্বের ধরন ছিল অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক। প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এবং আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার, এই সবের কারণে তিনি দ্রুত আলোচনায় আসেন। ২০১৫ সালে তাঁকে ধরতে গিয়ে মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া ফেলে।
অপরাধ জগতের উত্থানের নেপথ্যে ছিল তাঁর শৈশবের দারিদ্র্য, সীমান্ত পেরিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে প্রাথমিক সংযোগ বলে মনে করেছেন অনেকে। ধীরে ধীরে এল মেনচো এমন এক অবস্থানে পৌঁছান, যেখানে তিনি মাদকচক্রের শির্ষে নিজের জায়গা তৈরি করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করে ১৫ মিলিয়ন ডলার, যার ফলে এল মেনচো বিশ্বের সবচেয়ে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধীদের তালিকায় ওঠে।
