ওঙ্কার ডেস্ক: কৃষ্ণসাগরে অশান্ত জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছিল রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অঙ্গ, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘ভিরাট’। সেই সময় আচমকাই ঘটে বিপর্যয়। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এবং নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে নৌ-ড্রোন হামলায় ট্যাঙ্কারটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার ঠিক পর মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মেরিটাইম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে শোনা যায় আতঙ্কে ভরা বার্তা ‘হেল্প নিডেড! ড্রোন অ্যাটাক! মেডে!’। রুশ ট্যাঙ্কারের সেই সংকেত ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হয় চাঞ্চল্য, কারণ এটি সেইসব জাহাজের অন্তর্গত যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনের দায়িত্বে থাকে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ট্যাঙ্কারটিকে আগের দিনই একটি বিস্ফোরণে ক্ষতি হয়েছিল। তার ঠিক পরদিন সকালেই ড্রোন হামলায় নতুন করে আঘাত লাগে জাহাজের ডানদিকের অংশে। কিছু সূত্র দাবি করছে, বিস্ফোরণের অভিঘাত নীচের অংশেও প্রভাব ফেলেছে এবং জাহাজটি ধীরে ধীরে জলের দিকে ঢলে পড়ছিল। অপরদিকে তুরস্কের সমুদ্র পরিবহন আধিকারিকদের দাবি, ক্ষতি সীমিত এবং জাহাজটি কোনওভাবে ভাসমান ছিল। তবে সেই সময় ট্যাঙ্কারটি খালি অবস্থায় নোভোরোসিস্ক বন্দরের দিকে যাচ্ছিল বলেও জানা যায়।
ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ অর্থাৎ তেল পরিবহনের সেই সব জাহাজ যেগুলি বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচল করে। এই একই অভিযানে আর একটি ট্যাঙ্কার ‘কাইরস’-কেও নৌ-ড্রোন আঘাত করে। দুই ট্যাঙ্কারের ক্রুরা ঘটনার পর আতঙ্কে রেডিও বার্তায় সাহায্য চেয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তুরস্কের জলসীমায় উদ্ধার প্রস্তুতিও শুরু হয়।
হামলার পরবর্তী সময়ে জাহাজে আগুন লাগার কোনও খবর মিলেনি এবং রুশ পক্ষ দাবি করে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়, রাশিয়ার তেল রপ্তানি শৃঙ্খল ভাঙতেই এমন অভিযান চালানো হচ্ছে। যুদ্ধের আর্থিক জোগান মূলত তেল বিক্রির উপর নির্ভরশীল বলে কিয়েভের অভিযোগ, তাই এই নৌ-ড্রোন কৌশল রাশিয়ার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।
কৃষ্ণসাগরে এমন হামলা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধের মাঝে বাণিজ্যিক জাহাজ বারবার নিশানায় পড়ায় সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে। পাশাপাশি পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে, যদিও এই ঘটনায় কোনও তেল ছড়ানোর খবর মেলেনি। তবু ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কৌশলগত মানচিত্রে কৃষ্ণসাগরে গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
