ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার দাবি জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাত ক্রমশ তীব্র হওয়ার মধ্যেই ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিজের সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা বা শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়, যদি না তারা নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে। তাঁর বক্তব্য, ইরান যদি আত্মসমর্পণ করে এবং সেখানে একটি গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হলে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি ইরানকে পুনর্গঠনের পথে সাহায্য করতে প্রস্তুত। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশটিকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিইর মৃত্যুর পর এলোপাথারি হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল তাদের দেশের সর্বোচ্চ নেতার উপর হামলা মানে দেশের সার্বিক স্বার্থের উপর আঘাত হানা এবং তা কখনই সহ্য করবে না ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলা চালায় ইরানের উপর। গত শনিবার ইজরায়েলের হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চনেতা খামেনিই। তারপরই তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয় আমেরিকার সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা-আলোচনায় বসবে না তারা।
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মধ্যে প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। সংঘাতের এই আবহে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও ট্রাম্পের বক্তব্য সেই সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে সংঘাত আরও বাড়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা যায়। তবে সেই প্রচেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরও তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ এবং সামরিক উত্তেজনা ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশই সংযমের আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
